যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি জটিল হয়ে উঠছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এগোলেও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসপূর্ণ সম্পর্ক সেই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে পৌঁছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর তদারকি ক্ষমতা মেনে নিতে সম্মত হয়েছে। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি এবং আলোচিত সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তুও এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে মার্কি প্রেসিডেন্ট ভাইস জ্যাডি ভ্যান্স বলেছিলেন, সম্ভাব্য সমঝোতার মূল ভিত্তি হবে যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা এবং সেখানে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে।
আইএইএর পরিদর্শকরাও ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির অংশ ছিলেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওমাবামার আমলে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির আওতায় ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএর পরিদর্শন মেনে নিয়েছিল।
বিনিময়ে দেশটির তেল খাতের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয় এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করা হয়।
তবে ট্রাম্প ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন। এরপর থেকে চুক্তিটি কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে আইএইএর কিছু কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে। তেহরানের অভিযোগ, সংস্থাটির কিছু কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই অবিশ্বাসের কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরান বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে। পরিদর্শকের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। যদিও পরমাণু চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা ছিল, বাস্তবে প্রযুক্তিগত মতবিরোধ দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয় এবং অধিকাংশ বিরোধের সমাধান হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরান ধীরে ধীরে চুক্তির বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করতে শুরু করে এবং আইএইএর ওপর আরও বিধিনিষেধ আরোপ করে।
এদিকে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে আরও শীতল হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে সংঘাতজনিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গ্রোসি যথাযথ গুরুত্ব দেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত হলেও সেটি বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে আইএইএ ও ইরানের পারস্পরিক আস্থার সংকট।
কারণ, পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের দায়িত্ব যদি আবারও আইএইএর ওপর ন্যস্ত হয়, তাহলে অতীতের অভিজ্ঞতা ও বিদ্যমান অবিশ্বাস নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন চুক্তির সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে আইএইএর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক কতটা কার্যকর ও সহযোগিতামূলক থাকে তার ওপর।




