ফুটবল ইতিহাসের ৯ বড় অঘটন
আন্তর্জাতিক ফুটবলে চমক বা অঘটন নতুন কিছু নয়—বরং এটাই খেলাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড বা স্পেনের মতো শক্তিশালী দলগুলো হয়তো বিষয়টি অন্যভাবে দেখবে, তবে ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো অনিশ্চয়তা।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সমর্থকের কাছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দৃশ্যগুলোর একটি হলো—একজন সাধারণ মানের খেলোয়াড়ের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে বড় তারকা ও উচ্চ বেতনের দলকে পরাজিত হতে দেখা। এটাই ফুটবলের প্রকৃত রূপ।
নিচে ইতিহাসের সেরা কিছু আন্তর্জাতিক ফুটবল অঘটন তুলে ধরা হলো—
স্পেন বনাম কেপ ভার্দে (বিশ্বকাপ ২০২৬)
৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রসারণ নিয়ে শুরুতে সংশয় থাকলেও কেপ ভার্দের মতো দলের পারফরম্যান্স অনেককে মুগ্ধ করে। ক্যামেরুনকে হারিয়ে বাছাইপর্ব পার করার পর তারা স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে বড় চমক দেয়।
আফ্রিকার ছোট এই দেশটি সংগঠিত রক্ষণভাগে স্পেনকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচ বাকি থাকায় তারা নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্নও দেখছে।
আর্জেন্টিনা বনাম সৌদি আরব (বিশ্বকাপ ২০২২)
গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচে সবাই ধরে নিয়েছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা সহজ জয় পাবে। শুরুতে পেনাল্টি থেকে গোলও করেন মেসি।
তবে তিনটি গোল অফসাইডে বাতিল হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। সালমান আল-ফারাজ সমতা ফেরান এবং অধিনায়ক সালেম আল-দাওসারি দুর্দান্ত গোলে সৌদিদের এগিয়ে দেন।
শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব ২-১ ব্যবধানে জয় পায়, যা ২১ শতকের অন্যতম বড় বিশ্বকাপ অঘটন হিসেবে বিবেচিত হয়।
সেনেগাল বনাম ফ্রান্স (বিশ্বকাপ ২০০২)
এটি ছিল সেনেগালের প্রথম বিশ্বকাপ এবং উদ্বোধনী ম্যাচেই তারা মুখোমুখি হয় তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের।
জিনেদিন জিদান, থিয়েরি অঁরি, ক্লদ মাকেলেলে, প্যাট্রিক ভিয়েরা—তারকায় ভরা ফ্রান্স দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় সেনেগাল। ৩০তম মিনিটে পাপা বুবা দিয়োপের গোলই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।
নর্থ মেসিডোনিয়া বনাম ইতালি (বিশ্বকাপ বাছাই ২০২২)
মাত্র ১৮ লাখ জনসংখ্যার দেশ নর্থ মেসিডোনিয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে প্লে-অফে হারিয়ে বিশ্বকাপে যেতে বাধা দেয়।
অতিরিক্ত সময়ে আলেকসান্দার ত্রাজকোভস্কির গোল ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম বড় চমক হিসেবে ধরা হয়।
গ্রিস বনাম পর্তুগাল (ইউরো ২০০৪ ফাইনাল)
পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই অঘটন ঘটিয়ে গ্রিস ফাইনালে পৌঁছে যায় এবং স্বাগতিক পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইউরো জিতে নেয়।
অ্যাঞ্জেলোস চারিস্টেয়াসের হেডে আসা একমাত্র গোলই ইতিহাস গড়ে দেয়, যা ফুটবলের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে বিবেচিত।
জাম্বিয়া বনাম আইভরি কোস্ট (এএফকন ফাইনাল ২০১২)
এটি ছিল আরেকটি টুর্নামেন্ট চমক, যেখানে জাম্বিয়া শক্তিশালী আইভরি কোস্টকে হারিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জিতে নেয়।
আইসল্যান্ড বনাম ইংল্যান্ড (ইউরো ২০১৬)
মাত্র ৩ লাখ ৫০ হাজার জনসংখ্যার দেশ আইসল্যান্ড ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরোপে বড় বিস্ময় সৃষ্টি করে। এই হারের পর ইংল্যান্ডের তৎকালীন কোচ রায় হজসন পদত্যাগ করেন।
আয়ারল্যান্ড বনাম ইতালি (বিশ্বকাপ ১৯৯৪)
বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছানো ইতালিকে গ্রুপ পর্বে হারিয়ে বড় চমক দেয় জ্যাক চার্লটনের আয়ারল্যান্ড। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রে হাউটনের দুর্দান্ত গোল ইতিহাসে স্থান করে নেয়।
যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইংল্যান্ড (বিশ্বকাপ ১৯৫০)
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি। পেশাদার ইংল্যান্ড দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় শৌখিন খেলোয়াড়দের যুক্তরাষ্ট্র।
টম ফিনি, উইলফ ম্যানিয়নদের মতো তারকাদের নিয়েও ইংল্যান্ড জয় পায়নি। এই ম্যাচটি আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম অঘটনের ফলাফল হিসেবে স্মরণ করা হয়।




