গল্প এখানেই শেষ নয়: যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে লারিজানি
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি দাবি করেছেন, ‘চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৫০০-এর অধিক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘গল্প এখানেই শেষ নয়’। ইমাম খামেনির শাহাদাতের জন্য আপনাদের বড় মূল্য দিতে হবে, ইনশাআল্লাহ।’
বুধবার (৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লারিজানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাঁড়ামিপূর্ণ আচরণে প্রভাবিত হয়েছেন।
তার অভিযোগ, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি অন্যায় যুদ্ধে জড়িয়ে দিয়েছেন। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। পোস্টে লারিজানি লেখেন, ‘মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ৫০০-এর বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এখন ট্রাম্পকে হিসাব করতে হবে—যুক্তরাষ্ট্র কি এখনো সবার আগে, নাকি ইসরাইল?’ এ সময় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ‘অন্যায় যুদ্ধ’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে চারজন কুয়েতে নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই সংঘাত শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার নিহত হন বলে জানা গেছে। সরকারি হিসাবে, চার দিনের লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে ১৬৫ জন স্কুলশিশুর মৃত্যুর খবর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে নিজের বাসভবনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থানকালে হামলার লক্ষ্যবস্তু হন খামেনি। নিহতদের মধ্যে তার স্ত্রী, মেয়ে, পুত্রবধূ, জামাতা ও নাতি-নাতনিও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নেতৃত্ব কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার এক বিবৃতিতে লারিজানি বলেন, ইরান ‘দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’
তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার যে প্রস্তাব ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি দিয়েছিলেন, তা ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা মধ্যস্থতা করছিল ওমান।
উল্লেখ্য, বর্তমানে লারিজানি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান। এর আগে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।




