প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান, কুকথা! হাই কোর্ট চত্বরে আইনজীবীদের একাংশের বিক্ষোভে উত্তেজনা
গিয়েছিলেন মামলা লড়তে। হাই কোর্টে সওয়াল করেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে। তার পরে এজলাস থেকে বেরিয়েই বিক্ষোভের মুখে পড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন আইনজীবীদের একাংশ। ভিড়ের মধ্যে থেকে ভেসে আসে কুকথাও। এই বিক্ষোভের মাঝেই হাই কোর্ট চত্বর ছাড়েন মমতা। আইনজীবীদের একাংশের দিকে হাত দেখিয়ে বলেন, “ওরা আমাকে মেরেছে।”
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোট পরবর্তী অশান্তির একটি মামলার শুনানি ছিল হাই কোর্টে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় একটি জনস্বার্থ মামলা করেছেন। প্রধান বিচারপতি পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের এজলাসে ওই মামলার শুনানি হয় বৃহস্পতিবার সকালে। ওই মামলাতেই আইনজীবী হিসাবে সওয়াল করার জন্য গিয়েছিলেন মমতা।
সকাল ১১টার কিছু আগে হাই কোর্ট চত্বরে পৌঁছে যান তিনি। কালো শামলা পরে হাজির হন প্রধান বিচারপতি পালের এজলাসে। সেখানে সওয়াল করেন তিনি। তার পরে এজলাস থেকে বেরোনোর সময়েই ঘটে বিপত্তি।
তৃণমূলনেত্রী যে মামলা লড়তে গিয়েছেন, সে কথা প্রত্যাশিত ভাবেই ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছিল হাই কোর্টের আইনজীবী মহলে। হাই কোর্টের লবিতে ভিড়ও জমেছিল আইনজীবীদের। শুনানি পর্ব শেষে এজলাস থেকে বেরিয়েই হাই কোর্টের লবিতে বিক্ষুব্ধ আইনজীবীদের একাংশের সামনে পড়ে যান মমতা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে পেয়েই তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে থাকেন আইনজীবীদের একাংশ। ওঠে ‘চোর’ স্লোগান। ভিড়ের মধ্যে অন্য কুকথাও শোনা যায়।
আইনজীবীদের বিক্ষোভ ঘিরে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে ওঠে হাই কোর্টের লবিতে। ওই বিক্ষোভের মাঝেই হাই কোর্ট চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে যান মমতা। তবে এরই মধ্যে আইনজীবীদের একাংশের দিকে হাত দেখিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “ওরা আমাকে মেরেছে।”
হাই কোর্ট চত্বরের এই পরিস্থিতির নিন্দায় ইতিমধ্যে সরব হয়েছে রাজ্যের বিরোধী শিবির। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “যাঁরা এতদিন গণতন্ত্রের বুলি আওড়াতেন, তাঁরা আজ কী বলবেন? রাজ্যের তিন বারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী আদালতের দরজায় গিয়েছেন। সেখানে যদি এই ঘটনা ঘটে, তা হলে বিজেপি রাজ্যে কী ধরনের গণতন্ত্রের চাষ করতে চাইছে, তা বোঝাই যাচ্ছে।”




