এনসিপি আমাকে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হতে বলেছে: আসিফ মাহমুদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, এনসিপি থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদপ্রার্থী হওয়ার পূর্বাভাস পেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
আসিফ বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে আমাকে প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদপ্রার্থী হতে বলেছে। তবে এখনও চূড়ান্ত নয়।’
খুব তড়িঘড়ি করে ছয়টি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের নিয়োগ দেয়ার কোনো বিধি-বিধান গণ-ভ্যুত্থানের আগে ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়ররা পালিয়ে যান এবং অনেক জায়গায় ফ্যাসিবাদের দোসররা সেই জায়গাগুলোতে বসে বসে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। তখন সরকার এই বিধানটা করে যে, সরকার চাইলে যে কাউকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সংগত কারণেই এই আইন থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার করেনি। শুধুমাত্র একটি জায়গায় সেটা ব্যবহৃত হয়েছে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেয়ার সদিচ্ছা থাকলেও রাজনৈতিক নানা ধরনের বাস্তবতায় তা হয়নি বলেও জানান এনসিপির মুখপাত্র।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু রাজনৈতিক সরকার দায়িত্বে আসার সঙ্গে সঙ্গে যেখানে জনগণের ভোটের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের থাকার কথা, সেখানে দলীয়ভাবে বিভিন্ন সময় বঞ্চিত কিংবা নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের প্রাইস পোস্টিং করেছে এবং ছয়টি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।’
দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো জনপ্রতিনিধি শূন্য উল্লেখ করে আসিফ বলেন, ‘ফলে দেশের জনগণকে নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সেই বিবেচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য আমরা দুঃখজনকভাবে পাইনি। আশা করি তারা দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখা জানাবে।’
সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সেখানে নির্দিষ্টভাবে মেয়াদ উল্লেখ করা নেই। নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দেখে মনে হচ্ছে যে আমৃত্যু হয়তো তারা প্রশাসক থাকবেন। এইভাবেই সেখানে লেখা রয়েছে। অথচ সরকারি যেকোনো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সময়সীমা উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাস এক বছর দুই বছর স্বাভাবিকভাবে আমরা এই প্রক্রিয়াতেই দেখে থাকি সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগগুলো হয়ে থাকে।’
গত দুদিন ধরে এক ধরনের ভয়ের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা হচ্ছে অভিযোগ করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘পুলিশের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় অভিযানের নামে সাধারণ জনগণ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা মনে করি সরকার এর মাধ্যমে জনগণকে এক ধরনের ভয়ের মধ্যে রাখতে চাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- এখন আন্দোলন করা যাবে না। রাস্তা অবরোধ করা যাবে না। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক অযৌক্তিক এবং ছোটখাটো কারণেও রাস্তা অবরোধ হয়েছে। আমরা সেটাকে অবশ্যই সমর্থন করি না। আমরা মনে করি যেহেতু একটি নতুন সরকার গঠন হয়েছে তাদের কাজ করার ক্ষেত্রে এতটুকু সহযোগিতা জনগণের পক্ষ থেকে করা উচিত, অকারণে অযোক্তিকভাবে যাতে কেউ রাস্তা অবরোধ না করে। কিন্তু একইসঙ্গে কারও যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করার অধিকারকেও আমরা কোনোভাবেই যেন বিঘ্নিত না হয়।’
আসিফ মাহমুদ আরো বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরেও যারা বিভিন্ন জায়গায় জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য এবং মানুষের জন্য কাজ করেছেন বা কাজ করতে চান এমন অনেককে আমরা সুযোগ করে দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আমাদের আগের অবস্থান থাকবে। আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মার্কা এবং দলীয় মনোনয়ন থাকবে না। সেক্ষেত্রে এবার ব্যক্তি হিসেবে সবাই নির্বাচনে আসবে। এনসিপি সাংগঠনিক সমন্বয় করে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের সহযোগিতা করবে।’




