নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে জাতীয় চার নেতার প্রদর্শনী স্থগিত
নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী উদ্বোধনের আগমুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাদুঘরের ট্রাস্টিরা।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে আয়োজিত একটি প্রদর্শনী ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ উদ্বোধনের কিছু সময় আগে স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় আগারগাঁওয়ে ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতীয় চার নেতা’ শীর্ষক বিশেষ এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগে স্থগিতের কথা জানান আয়োজকেরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী ও মফিদুল হক।
গণমাধ্যমকে বলেন, “আজ বিকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের জানিয়েছে যে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রদর্শনীটি বন্ধ রাখা উচিত হবে। তাদের সেই পরামর্শক্রমেই উদ্বোধন আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।”
এদিন বিকাল ৪টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কয়েকজন অতিথিও এসেছিলেন। এর কিছু আগে ১২ থেকে ১৫ জন পুলিশ সদস্য এসে নিরাপত্তার কথা বলে অনুষ্ঠান শুরু করতে নিষেধ করেন। পরে আয়োজকেরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিতের কথা জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনুমতি ছাড়া একটা প্রোগ্রাম হচ্ছিল আর কি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের হেল্প চাওয়া হইছে যে, অনুমতি ছাড়া এখানে প্রোগ্রাম হবে না। পরে আমাদের পুলিশ ওখানে গিয়ে জাস্ট দেখভাল করছে আরকি?”
অনুষ্ঠান কী বাতিল করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাদুঘর কর্তৃপক্ষ নিষেধ করেছে, কোনো অনুষ্ঠান হবে না।
জাদুঘরের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিকাল ৪টায় জাদুঘরের ষষ্ঠ তলার ৬ নম্বর গ্যালারিতে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল মুক্তি যুদ্ধকালীন সরকারের কর্মকর্তা ও সাবেক সচিব ওয়ালিউল ইসলামের।
প্রদর্শনীটি ৩ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন জাদুঘরের ট্রাস্টিরা।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ৩ নভেম্বর তাঁর ঘনিষ্ঠ চার সহচর ও মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ চার সংগঠক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে কারাগারে ঢুকে হত্যা করা হয়।
এ প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য তুলে ধরে সারওয়ার আলী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ১৬ ডিসেম্বরের পরবর্তী সময়ের ঘটনাবলী নিয়ে সাধারণত অনুষ্ঠান করা হয় না। আজকের প্রদর্শনীটি মূলত জাতীয় চার নেতার মুক্তিযুদ্ধে প্রস্তুতি পর্ব ও মুক্তি যুদ্ধকালীন তাদের ঐতিহাসিক ভূমিকাকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছিল, এটি কোনো সাধারণ জেল হত্যা দিবসের অনুষ্ঠান ছিল না।”
শেষ মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেন মনে হলো, এখানে নিরাপত্তা শঙ্কা হতে পারে—এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পেয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে চাইনি। নিশ্চয়ই উদ্ভূত পরিস্থিতির সুবিধাজনক বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে, আর আমাদের কাছে নিরাপত্তার বিষয়টির গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি।”
এ প্রদর্শনীর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সাধারণত তো এই ধরনের অনুষ্ঠান, ঘরোয়া অনুষ্ঠান বা এ ধরনের কোনো আইনতো নেই। এবং এটি তিন-চার দিন আগেই প্রচার হয়েছে। কাজেই শেষ মুহূর্তে এটাই অপ্রত্যাশিত আমাদের কাছে।”




