ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের ভরাডুবির কারণ মানছেন ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির অভাবনীয় পরাজয় এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার পেছনে সরাসরি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই মতামত তুলে ধরেন।
তিনি লেখেন, “আমাদের পরাজয়ের কারণ হলো এই যুদ্ধ। গত রাতে প্রেসিডেন্ট নিজেও একথায় সম্মতি জানিয়েছেন।” আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো চড়া মূল্য দিয়ে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কতটা যৌক্তিক ছিল, তা নিয়ে তিনি দলের ভেতরে খোলামেলা আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান।
পরাজয়ের পেছনে চারটি কারণ চিহ্নিত:
জে ডি ভ্যান্স তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালে যেসব ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁকে ভোট দিয়েছিলেন, এবার তাঁদের অনেকেই মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ডেমোক্র্যাটদের বেছে নিয়েছেন। কারণগুলো হলো:
১. ইরান যুদ্ধের দ্রুত অবসান।
২. মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ।
৩. ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে প্রকৃত অর্থে অগ্রাধিকার দেওয়া।
৪. ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও সম্পর্কে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা।
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল এমন যুক্তি মানতে নারাজ ভ্যান্স। ফ্লোরিডার উদাহরণ টেনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভোটার উপস্থিতি মূল সমস্যা ছিল না; আসল সংকট ছিল সাধারণ ভোটারদের ক্ষোভ। ২০২৪ সালের নিজস্ব সমর্থকরাই এবার বিকল্প হিসেবে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রচারণার শেষ ভাগে রিপাবলিকানদের অর্থনৈতিক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে যথেষ্ট জোরালো ছিল না বলেও তিনি স্বীকার করেন।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক র্যাচেল ক্যাম্পোস-ডাফির কূটনৈতিক সমাধানের প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে ভ্যান্স ক্ষুব্ধ সমর্থকদের শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। উল্লেখ্য, গত বসন্তেই ভ্যান্স নিজে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। যারা দলের নীতির সমালোচনা করে ‘আমরা আগেই বলেছিলাম’ মন্তব্য করছেন, ভ্যান্স তাঁদের সঠিক বলে স্বীকার করে নিয়েছেন এবং এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে সমমনা রিপাবলিকানদের আবার নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন যে অভিযান শুরু করেছিল, তা মাত্র চার-পাঁচ সপ্তাহে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা এখন নবম মাসে গড়িয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৮৬৫ জন আহত হয়েছেন। এমনকি নির্বাচনের আগের দিনও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোতে ডেমোক্র্যাটরা বড় জয় পাওয়ায় সিনেটে অন্তত ৫৪টি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২৫১ থেকে ২৬৮টি আসনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে যাচ্ছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দিতে এই অভিযান আবশ্যক ছিল। যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট ও অনড় অবস্থান হলো, “যুদ্ধ তখনই শেষ হবে, যখন আমি বলব এটা শেষ।”




