লাওসে শ্রমবাজার বন্ধ, তবু ৭১৫ কর্মীর ছাড়পত্র নিয়ে প্রশ্ন
লাওসে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, কাজের অনুমতিপত্র ও প্রবেশ ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দেশটি। এর মধ্যেই সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৭১৫ জন কর্মী লাওসে যেতে বিএমইটির ছাড়পত্র পেয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে লাওসে গমনেচ্ছু কর্মীদের সে দেশে না যাওয়ার এবং প্রতারক চক্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত লাওসে কাজের সুযোগ সংক্রান্ত খবরের বিষয়ে সে দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। বিষয়টি যাচাই করার জন্য দূতাবাস লাওসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “লাওস সরকার সে দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শ্রম বাজার বন্ধসহ কাজের অনুমতিপত্র এবং প্রবেশ ভিসা (এলএ-বি২) ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।”
দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ নিষেধাজ্ঞা ১ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লাওসে গমনে সতর্ক থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় দেশের জনগণকে কোনো ধরনের প্রলোভন, ভুয়া ভিসা বা অননুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির চক্রান্তে না পড়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া যেকোনো ভিসা ও চাকরির প্রস্তাব নিশ্চিত হওয়ার আগে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত তথ্যসূত্রের সহায়তায় যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৭১৫ জন কীভাবে বিএমইটির ছাড়পত্র পেলেন?
তবে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো—বিএমইটির তথ্য বলছে, ভিসা কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও গত সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৭১৫ জন কর্মী লাওসে যেতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র পেয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিএমইটির বহির্গমন শাখার উপপরিচালক মিজানুর রহমান সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি, যাদের আগেই ভিসা ছিল, তাদের এটা অ্যাটাস্টেড ছিল। অর্থাৎ যারা বাজার বন্ধ হওয়ার আগেই ভিসা পেয়েছিলেন, তাদেরকেই এই সময়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। নতুন করে কাউকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।”




