দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগে পুতিন-মোদী বৈঠক
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানের জন্য তিন দিনের জন্য ভারতে সফর করছেন। শুক্রবার সম্মেলন শুরুর আগে দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। দুই দেশের নেতাই একে অপরকে উষ্ণ আলিঙ্গন জানানোর পর তাদের এই বছরের দ্বিতীয় বৈঠকে বসেন। এর মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে (৩১ অগাস্ট) বিশকেকে ২৬তম এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে তাদের প্রথম বৈঠক হয়েছিল।
পুতিনকে মহান ভারতীয় তামিল কবি এবং দার্শনিক তিরুভাল্লুভারের লেখা ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদও উপহার দিয়েছেন মোদী, যেটিতে কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে ব্যাপক লেখা রয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের গাড়িতে করে যাতায়াত করেন। দুই নেতার একসঙ্গে গাড়ি ভাগ করে নেওয়ার এটি তৃতীয় ঘটনা।
পুতিন সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারত-রাশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করেছিলেন। তবে ইউক্রেইনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর (ফেব্রুয়ারি ২০২২) রাশিয়ার বাইরে এটিই ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তার প্রথম সরাসরি বা সশরীরে উপস্থিতি।
পুতিনের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রয়েছে। তার এই সফর নয়াদিল্লি এবং মস্কোর মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গত সপ্তাহে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেক শহরে ‘সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা’র সম্মেলন ছিল। তার ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের আলাদা একটি বৈঠক হয়েছিল। এবারের বৈঠক মূলত আগেরটির ধারাবাহিকতায়ই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশকেকে বৈঠকের সময় পুতিনকে এক ‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে যুদ্ধ শেষের দিকে এগিয়ে যাওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন মোদী। পাঁচ বছর আগে মস্কোর সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ প্রসঙ্গেই তিনি এই কথা বলেন।
শুক্রবারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি উভয় পক্ষকে তাদের অংশীদারিত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা এবং কৌশলগত গুরুত্বের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ করে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুতিনের ভারত সফরের আগে ভারতীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলার সময় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছিলেন, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং চলমান বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ইউক্রেইন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবেন।




