তানজিদের ছোঁয়ায় টেস্টে ‘স্টাইল বদলের’ ভাবনা বাংলাদেশের
‘বাজবল বলছি না…’, এটুকু বলেই একচোট হাসলেন হাবিবুল বাশার। তিনি খুব ভালো করেই জানেন, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে বাজবলের প্রসঙ্গ আনা মানেই হাসির খোরাক জোগানো। এজন্যই প্রধান নির্বাচক দ্রুত যোগ করলেন, বাজবলের মতো কিছু না হলেও টেস্টে খেলার ধরন পরিবর্ত করতে চায় বাংলাদেশ দল। সেটি বদলের ঝাণ্ডা নিয়ে টেস্ট দলে এসেছেন তানজিদ হাসান।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের বাংলাদেশ স্কোয়াডে তানজিদের জায়গা পাওয়াটা বেশ কৌতূহল জাগানিয়া। সাদা বলের ক্রিকেটে তিনি দলের প্রথম পছন্দের ওপেনার এখন। তবে টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা পেলেন প্রথমবার।
সবশেষ সিরিজে বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয় বেশ ভালো করেছেন। তারা এবারের স্কোয়াডেও আছে। তবে আরেকজন ওপেনারকে নেওয়ার ব্যাপারটি চোখে পড়ার মতোই।
দল ঘোষণার পর দিন চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক নিজেই সেই প্রসঙ্গটি টেনে আনলেন। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে দলের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে তিনি শোনালেন খেলার ধরন বদলের ভাবনা।
“টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখনও পর্যন্ত খুব একটা গর্ব করে বলতে পারব না যে আমরা খুব ভালো খেলেছি। আমাদের পরিকল্পনা, এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে যেন ভালো করতে পারি। আগে আমরা খুব একটা ভালো করিনি, সেখান থেকে যেন নিজেদেরকে আরেকটু ওপরের দিকে নিয়ে আসতে পারি। সেটা করার জন্য হয়তো আমরা ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারি। একটু আগ্রাসী ক্রিকেটের দিকেও যেতে পারি।”
আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে তো সেই ধরনের ক্রিকেটাররও লাগবে। সেই ভাবনাতেই নির্বাচকদের মনে পড়েছে তানজিদ হাসানকে।
“আপনারা দেখেছেন নতুন ওপেনার নিয়েছি, সেটা এই পরিকল্পনার অংশ। আমাদের বোলিং বিভাগ ভালো। ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য আছে। ব্যাটিংয়ে যদি ধারাবাহিকভাবে ভালো হতে পারি, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ভালো করবে। হয়তো স্টাইলটা একটু বদল হতে পারে। ‘বাজবল’ বলছি না, তবে স্টাইলটা পরিবর্তন হতে পারে।”
“আমরা যখন কোনো ক্রিকেটার বাছাই করছি, তার খেলার ধরণ দেখে নির্বাচন করছি। যাকে যেটা দেখে দলে নিয়েছি, আমরা চাচ্ছি সে ওই ধরণের ক্রিকেটই খেলুক। আমাদের খেলা কেমন হবে, আমরা পরে সিদ্ধান্ত নেব। তবে এটা আমাদের পরিকল্পনা যে, আমরা এমন ক্রিকেট খেলতে পারি। আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চাইলে ওই ধরণের ক্রিকেটার লাগে। এটা পরিকল্পনার অংশ।”
সীমিত ওভারে তানজিদ যথেষ্টই আক্রমণাত্মক ক্রিকেটার। সেই সহজাত ধরন ধরে রাখেন তিনি দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেও। ৬ বছরের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যদিও তিনি ম্যাচ খেলেছেন মোটে ২৫টি। তবে রেকর্ড বাংলাদেশের বাস্তবতায় খারাপ নয়। ৫ সেঞ্চুরি ও ৬ ফিফটি করেছেন, ব্যাটিং গড় ৪০.৭২। তবে নজর কাড়ার মতো ব্যাপার তার স্ট্রাইক রেট, ৭৭.৬৭! এই সংস্করণে ৪১টি ছক্কা মেরেছেন এর মধ্যেই।
বলার অপেক্ষা রাখে না, নির্বাচকরা কেন তাকে বেছে নিয়েছেন!
তবে তানজিদকে নেওয়া মানেই সাদমান ও জয়কে কোনো বার্তা দেওয়া নয় বলেই জানালেন প্রধান নির্বাচক। তারা দুজনই প্রথাগত ঘরানার টেস্ট ওপেনার, উইকেট আঁকড়ে পড়ে থাকতে পছন্দ করেন। গত কিছুদিনে অবশ্য দুজনের ব্যাটিংয়েই একটু বাড়তি তাড়না, শট বেশি খেলার প্রবণতা দেখা গেছে। তবে তানজিদের মতো আক্রমণাত্মক তারা অবশ্যই নন।
প্রধান নির্বাচক জোর দিয়েই বললেন, কাউকেই সহজাত খেলার ধরন থেকে বের করতে চাইবেন না তারা।
“যে ধরণের ক্রিকেট যে খেলে, তাকে ওভাবে খেলতে দেব। আমাদের যে দুজন ওপেনার আছে, তাদের নিজস্ব স্টাইল আছে। আমি চাই না তারা সহজাত স্টাইলের বাইরে গিয়ে খেলুক। কারণ তাতে সাফল্যের হার কমে যায়। তারা ফর্মে আছে, ম্যানেজমেন্টের পছন্দ তারাই। আমি বলছি ভবিষ্যতে যদি পরিকল্পনা বদল করতে হয়, তার জন্য অপশন হাতে রাখা। আমি সাদমানকে বলব না তামিমের (তানজিদ) মতো খেলতে বা তামিমকে বলব না সাদমানের মত খেলতে।”
মিরপুর টেস্ট শুরু আগামী ৮ মে থেকে। পাকিস্তান দল ঢাকায় আসবে রোববার।




