আমাদের প্রতিষ্ঠান জবরদখল হয়েছে
নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকম জবর দখলের অভিযোগ তুলেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রামীণ টেলিকম ভবনের নিচতলায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, ভবনটা আমরা করেছি এটা আমাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। হঠাৎ চার দিন আগে বাইরের লোক এসে জবরদখল শুরু করে আর আমরা বাইরের লোক হয়ে গেলাম।
ড. ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু তারা ঘুরে গিয়ে কোনো অসুবিধা দেখছেন না জানান। জবরদখলের পর আমরা নিজের বাড়িতে ঢুকতে গেলে তারা আমাদের পরিচয় জিজ্ঞাস করছে। নিজের অফিসে ঢুকতে পারব কি না এটা এখন বাইরের লোকের এখতিয়ার হয়ে গেছে। যখন দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ হচ্ছে তখন এ অবস্থা। দেশবাসীকে বলব, এভাবে দেশ কীভাবে চলে? আমাদের সব অফিসের প্রধান কার্যালয় এটি। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য এখান থেকে কাজ করা হয়।
এ সময় অন্যদের মধ্যে গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, গ্রামীণ কল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মঈনুদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
ড. ইউনূস বলেন, হঠাৎ কী হলো বাইরের কিছু লোক এসে তা জবরদখল করছে। আমরা কোথায় যাব, কী করব? পুলিশ আমাদের কথা শুনছে না।
নোবেলজয়ী এ অর্থনীতিবিদ বলেন, মামলা হোক। আদালতে আমাদের অনেক মামলা চলমান। সেভাবে আমরা মোকাবিলা করব। কিন্তু জবরদখল কেন? দেশের মানুষের কাছে বিচারের ভার দিলাম। পুলিশের কাছে আমরা সহযোগিতা চেয়ে পাইনি।
১২ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ভবনে অবস্থিত আটটি অফিস দখল করে নেওয়া হয় বলে জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, ওই দিন থেকে তারা ভবনে তালা মেরে রেখেছে। নিজের বাড়িতে অন্য কেউ যদি তালা মারে, তখন কেমন লাগার কথা আপনারাই বলেন। তাহলে দেশে আইন-আদালত আছে কীসের জন্য। তারা আদালতে যেতে চায় না। আমরা জীবনে বহু দুর্যোগ দেখেছি। এমন দুর্যোগ আর কখনো দেখিনি। তিনি বলেন, দেশটা চলছে কীভাবে। আমাদের বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল হচ্ছে।
এ বিষয়ে আদালতে শরণাপন্ন হবেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ব্যবসার মুনাফার টাকায় এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় হয়নি, যা হয়েছে আইন মেনে হয়েছে।
গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে ১৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব প্রতিষ্ঠানই এই ভবনে। এর সবগুলোর চেয়ারম্যান ড. ইউনূস। এর মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে সামাজিক ব্যবসা সংক্রান্ত।
গ্র্রামীণ টেলিকমের এক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেল ৪টায় গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অন্তত ২০ জন এসে খুঁজছিলেন গ্র্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে। তারা বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের বৈঠক চলছে। সেখান থেকে একটি চিঠি আসবে। সেই চিঠি আসার আগ পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে। রাত ৯টায় গ্রামীণ ব্যাংকের চিঠি নিয়ে এসে কয়েকজন কর্মী ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে গ্রামীণ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা এসে তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা গ্রামীণ টেলিকম এবং গ্রামীণ কল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কক্ষে অবস্থান নেন। তারা বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভায় তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তারা এখানে দায়িত্ব পালন করবেন। এরসঙ্গে বর্তমান কর্মকর্তারাও বহাল থাকবেন। তারা আরও বলেন, কোম্পানির চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা হয়েছে। নতুন করে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে পাঠানো চিঠিতে দেখা গেছে, গ্রামীণ টেলিকম ও গ্রামীণ কল্যাণের পরিচালক পদে কয়েকজনকে মনোনীত করার পাশাপাশি এ দুই কোম্পানির চেয়ারম্যান পদে ইউনূসের বদলে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল মজিদকে মনোনীত করা হয়।
গ্রামীণ টেলিকম ভবনে ড. ইউনূসের যে নয়টি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলো হলো গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ মৎস্য, পশুসম্পদ ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ কৃষি ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ সামগ্রী, গ্রামীণ ফান্ড, গ্রামীণ শক্তি ও গ্রামীণ কমিউনিকেশন। বাকিগুলো লিমিটেড কোম্পানি। গ্রামীণ ব্যাংকের সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন দুটি প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া হয়েছে।





