‘সরকার তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ, এখন মানবাধিকার হরণ করে নিচ্ছে’
তারেক রহমানের হাতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, ‘সরকার তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সুশাসন দিতে ব্যর্থ। এখন মানবাধিকারগুলোকেও হরণ করে নিচ্ছে।’
সরকার বিরোধী মত দমনে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের পথে হাঁটছে বলেও দাবি করেন এনসিপির আহ্বায়ক। এভাবে চলতে থাকলে ক্রমশ গণআন্দোলন আসন্ন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। ‘বিএনপি সরকার কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদ’ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে তারেক রহমানের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা তারেক রহমানকে বলবো; দ্রুত সময়ের মধ্যে আপনি সঠিক পথে আসুন, গণতন্ত্রের পথে আসুন। আমরা জানি ন্যাড়া বেলতলা একবার যায়, কিন্তু তারেক রহমান বার বার যায়।’
সরকারের দুর্নীতি দমন কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি দুর্নীতি এবং দুদককে নিয়ে নতুন কাণ্ড শুরু হয়েছে। দুদককেও আপনারা সংস্কার করেননি। সাত মাস পরে দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপিকে টার্গেট করেছেন, বিরোধী দলকে টার্গেট করছেন। যদি সাহস থাকে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির অভিযোগগুলো আপনারা তদন্ত করুন, যে বার বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।’
অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘এদেশের রাস্তায় ইট-পাথর থেকে আপনারা দুর্নীতি করেছেন এবং এখন মহিষ ঘাস খাবে, সেখান থেকেও চাঁদাবাজি করছেন। ফলে দুর্নীতি কারা করে, বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও দেখেছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমা করে আপনাদেরকে ক্ষমতায় এনেছিল। আপনারা সেই দুদককে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন, আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন। ব্যবহার করতে থাকুন। দুদক শেখ হাসিনা ধ্বংস করেছিল, আপনাদের কাজ ছিল সেটা গড়ে তোলা। আপনারা সেটা গড়ে তোলেননি, শেখ হাসিনার কায়দায় যাচ্ছেন।’
সরকারের বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা পুলিশ সংস্কার কমিশন করেননি, পুলিশকে প্রস্তুত করা হচ্ছে বিরোধী দলকে দমন করার জন্য। আপনারা নির্বাচন কমিশনকে ভূলুণ্ঠিত করছেন।’
তারেক রহমানের নেতৃত্বের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘গণতন্ত্র তারেক রহমানের হাতে সুরক্ষিত নয়, মানবাধিকার তারেক রহমানের হাতে সুরক্ষিত নয়। তারেক রহমান নতুন স্বৈরাচার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।’
হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি নতুন স্বৈরাচার হিসেবে আবির্ভূত হয় আমরা এটা বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের অওকাত (সামর্থ্য) নাই শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচার হবে। তার বহু আগেই এদেশের জনগণ রাজপথ প্রকম্পিত করবে এবং তারেক রহমানের এই স্বৈরাচারী প্রবণতাকে, বিএনপির স্বৈরাচারী প্রবণতাকে রুখে দেবে।‘
জাতিসংঘে তারেক রহমানের সফরের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জাতিসংঘে যাচ্ছেন; পতিত সরকার এবং আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে নানান ধরনের প্রোপাগান্ডা করছে, তখন তাদের হাতে আপনারা একটা অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন এই আইনগুলা পাশ করে। ফলে আমি জানি না আপনি সেখানে কী জবাব দেবেন? নরমালি আপনার জবাব দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কারণ সংসদে দেখি আপনি জবাব দেন না, অথবা জবাব দিতে জানেন না। কথা বলতে পারেন না, আপনার পাশের জন আপনার হয়ে কথা বলে। জাতিসংঘ এরকম ব্যবস্থা আছে কি না অথবা কথা বলার সুযোগ পাবেন কি না আমরা জানি না।’
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘তবে বলব যে, আপনি সেখানে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন; আপনি শুধু সেখানে বিএনপিকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন না। ফলে যদি ভালো হতো যদি জাতীয় ঐক্য আপনি দেখাতে পারতেন। ড. মোহাম্মদ ইউনূস জাতীয় ঐক্য দেখিয়েছিলেন; তার বিরুদ্ধে অনেক সমালোচনা আছে, কিন্তু তিনি পতিত স্বৈরাচারকে ঠেকাতে জাতীয় ঐক্য দেখিয়েছিলেন বিশ্ববাসীকে। তারেক রহমান সে জাতীয় ঐক্য দেখাতেও ব্যর্থ হয়েছেন।’
সব রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘ফলে ক্রমশ গণআন্দোলন আসন্ন। এই সরকার তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সুশাসন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন মানবাধিকারগুলোকে হরণ করে নিচ্ছে। এবং গণভোটের গণরায়ও বাস্তবায়ন করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফলে আমাদের দুর্ভাগ্য, যে দল বিগত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করল, তারা ক্ষমতায় এসে এখন জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে। যে দলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার হরণ হয়েছিল, তারা এখন অন্যের মানবাধিকার হরণ করছে। যেই দল নির্বাচনের আগে বলেছিল মদিনার ইসলাম কায়েম করবে, তারা এখন ইসলামবিরোধী আইন কীভাবে পাশ করা যায় সেই চেষ্টা করছে।’





