ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুপক্ষের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকাল ৮টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে নিজেদের পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান নেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ।
অন্যদিকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ এবং এস আলমের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে সেখানে কর্মসূচি পালনে যায় ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়।
গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিকের দাবি, তাঁদের কর্মসূচিতে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া এস আলমের অনুসারী ও অবৈধ নিয়োগে চাকরিচ্যুত কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। এতে ফোরামের সহসভাপতি ও ব্যবসায়ী মোতাছিম বিল্লাহসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশের উপস্থিতিতেই গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হলেও পুলিশ কোনো ভূমিকা পালন করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে ফোরামটি।
ফোরামের আরেক সহসভাপতি শামিম হাসনাইন বলেন, এস আলমের আমলে অনিয়ম ও ভুয়া সনদের মাধ্যমে বহু বিতর্কিত নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নতুন পর্ষদ যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যদের বহাল রাখার উদ্যোগ নিলেও সংশ্লিষ্টরা তাতে অংশ নেননি। এখন তাঁরা ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মীদের দাবি, ৫ আগস্টের পর গঠিত নতুন পরিচালনা পর্ষদ তাঁদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করেছে। চাকরি হারিয়ে তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সকালে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন, কিন্তু বহিরাগতরা এসে হঠাৎ তাঁদের ওপর হামলা চালায়।
সার্বিক বিষয়ে মতিঝিল থানার এএসআই আয়েশা জানান, সকালে দুই পক্ষের মধ্যে ছোটখাটো ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের কিছু হয়নি। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে ব্যাংকের আশপাশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।





