অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানিতে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।
বিবিসি ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, ইসরায়েল ইস্যুতে এটি যুক্তরাজ্যের ‘নতুন পদ্ধতির সূচনা’। তিনি জানান, অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
মিলিব্যান্ড বলেন, এসব পদক্ষেপ ইসরায়েল সরকার ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংসের বিষয়টি যুক্তরাজ্য মেনে নেবে না।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসরায়েলের সরকারি নীতির পাশাপাশি পশ্চিম তীরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় সমর্থন বা উসকানি দেওয়ার অভিযোগে পশ্চিম তীরের আরও কয়েকজন উগ্র বসতি স্থাপনকারীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানান তিনি।
মিলিব্যান্ড সতর্ক করে বলেন, পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনে যারা অর্থায়ন বা সহায়তা করবে, তাদেরও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে।
এ ছাড়া অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে সেবা ও অর্থায়ন প্রদানকারী নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানি ও ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ব্রিটিশ সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ‘জাতিগত নিধন’ করা হচ্ছে, এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত বলেও জানান মিলিব্যান্ড।
তার মতে, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের প্রবণতা দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানির বিষয়ে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাও বহাল রাখার কথা নিশ্চিত করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জানান, ইসরায়েলের জন্য স্থগিত করা ৩০টি অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্সের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর থাকবে।




