‘কয়েকদিনের মধ্যে’ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: তিতুমীর
সংকট কাটিয়ে দেশে গ্যাসের সরবরাহ ‘কয়েকদিনের মধ্যে’ স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার আশা দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তার কথায়, সরকারের উদ্যোগ এবং বিকল্প উৎস থেকে আমদানি ব্যবস্থার ফলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পূর্বের অবস্থায় ফিরবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে সোমবার ঢাকায় এক সেমিনারে কথা বলছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) সেমিনারটি আয়োজন করে।
তিনি বলেছেন, দেশে মোট গ্যাসের চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফটি), বর্তমানে সরবরাহ আছে ২৬শ থেকে ২৭শ এমসিএফটি। যার মধ্যে ১৬শ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসে; আর ১ হাজার পাওয়া যায় এলএনজি থেকে। আবেদনকৃত গ্রাহকসহ দেশে মোট গ্যাসের ৫ হাজার ২০০ এমএমসিএফটি হওয়ার কথা তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, এই চাহিদা মেটানোর জন্য সরকার ইতোমধ্যে নানা রকমের উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে মাতারবাড়িতে ১ হাজার এমএমসিএফটি ক্ষমতাসম্পন্ন ‘বিল্ড, ওন, অপারেট, ট্রান্সফার’ পদ্ধতিতে একটি স্থল এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রে ৬০০ এমএমসিএফটি ক্ষমতাসম্পন্ন এফএসআরইউ নির্মাণে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা শেষের পথে থাকার কথা বলেন তিনি।
বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান সেমিনার্ স্বাগত বক্তব্য দেন।
সেমিনারে ইএসটেক্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজাজ হোসেন, বিআইআইএসএস-এর গবেষণা পরিচালক মাহফুজ কবির এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগেরঅতিরিক্ত সচিব মঞ্জুর আলম প্রধান তিনটি উপস্থাপনায় বর্তমান জ্বালানি নিরাপত্তা পরিস্থিতির সার্বিক দিক তুলে ধরেন।
ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমেছে বেশ কিছুদিন ধরে। ফলে জনজীবনে নেমেছে দুর্ভোগ। বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বাসা-বাড়ি কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্নাবান্না নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়ছে খরচ ও ভোগান্তি। চাপ বেড়েছে খাবার হোটেলগুলোতেও। তবে লাইনের গ্যাস না পাওয়া অনেক হোটেল হয়ে পড়েছে খাবার শূন্য।
গ্যাস সরবরাহ সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই সমাধান আসবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।





