আম্মার ও রাকসু নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলা মারধরের অভিযোগ এনে রাকসু ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক। বিচারক অভিযোগ তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছে।
বুধবার রাজশাহীর মতিহার থানা আমলি আদালতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. মাহমুদুল হাসান মাহিনের বাবা আসাদ উজ জামান অভিযোগটি দেন বলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুর রফিক জানান। তিনি বলেন, বিচারক মো. আশিকুর রহমান পিবিআইকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, রাকসুর সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা, জিয়া হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম, শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি আহসান উল্লাহ ফারহান ও নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস নুরুল ইসলাম শহীদকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হজরত আলী সাংবাদিকদের বলেন, “আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য পিবিআইকে পাঠিয়েছেন।”
তিনি বলেন, অভিযোগে আরও ১৭ থেকে ১৮ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসাদ উজ জামান অভিযোগ করেন, খবরটি তিনি ঘটনার দিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফেইসবুকের মাধ্যমে জানতে পারেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান। পরে ২৮ জুলাই মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা নেননি। তাই আদালতে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে যা বলা হয়েছে
অভিযোগে বলা হয়, ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতর ও বাইরে ছুরি, রড, বেলচা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে একদল ব্যক্তি মাহিনকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন।
সেখানে সালাউদ্দিন আম্মার লোহার রড দিয়ে তার মাথা ও কপালে আঘাত করেন। আর সালমান সাব্বিরও রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তা বাম চোখে লাগে এবং গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া অন্য আসামিরা বুক, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। চার আসামি তাকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
এতে বলা হয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উপস্থিত লোকজন মাহিনকে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করলে আসামিরা তাকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে টেনে নামিয়ে পুনরায় মারধর করেন। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার দিন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে তিন শিক্ষার্থী হামলা ও মারধরের শিকার হন। তারা হলেন- ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস আহমেদ আকাশ (২৮), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবুল হাসান (২২) এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাহমুদুল হাসান মাহিন (২৪)।
এর মধ্যে আনাস ও আবুল হাসানকে আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।




