ইরানের সঙ্গে চুক্তি ছাড়াই পাকিস্তান ছাড়লেন ভ্যান্স
ইরানের সঙ্গে সংলাপে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার কথা জানানোর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৮ মিনিটে এয়ার ফোর্স টু বিমানে চড়ে ইসলামাবাদ ছাড়েন তিনি।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুসারে, এদিন সকালে ইসলামাবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানান ভ্যান্স। তিনি বলেন, দুঃসংবাদ, তারা (ইরান) আমাদের শর্ত মানতে রাজি হয়নি।
এ সময় তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা ২১ ঘণ্টা গড়ালেও কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল নিয়ে দেশে ফেরত যাওয়ার ঘোষণা দেন। এর কিছুক্ষণ পরই দেশের উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন তিনি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, আলোচনায় যা কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটেছে, তার কারণ পাকিস্তানিরা নয়; তারা অসাধারণ কাজ করেছে এবং আমাদের ও ইরানিদের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সত্যিই সাহায্য করার চেষ্টা করেছে। আমরা ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করছি। ইরানিদের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছি।
তিনি বলেন, দুঃসংবাদটি হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি দুঃসংবাদ। সুতরাং, কোনো চুক্তিতে না পৌঁছেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ফিরে যাচ্ছি। এটাই সুসংবাদ।
এদিকে এই অচলাবস্থার জন্য ওয়াশিংটনের ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অতিরিক্ত’ দাবিকে দায়ী দাবি করেছে ইরান। মতবিরোধের মূল বিয়ষগুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালি ইস্যু, পারমাণবিক কর্মসূচি প্রকল্প এবং অন্যান্য বিতর্কিত বিষয়।
দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘যুক্তিসঙ্গত’ চুক্তিতে রাজি না হলে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেহরান এই আলোচনার জন্য কোনো তাড়াহুড়ো করছে না।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবির’ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের জন্য ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা ভেস্তে গেছে। ইরানি প্রতিনিধিদল ইরানি জনগণের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে একটানা ও নিবিড়ভাবে ২১ ঘণ্টা আলোচনা চালিয়েছে; ইরানি প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও, মার্কিন পক্ষের অযৌক্তিক দাবি আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা দিয়েছে।




