জ্বালানি তেল না পেয়ে ঘণ্টাব্যাপী ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ
গোপালগঞ্জে ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল না পেয়ে ঘণ্টাব্যাপী ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন ভুক্তভোগীরা। এতে সড়কে দুই কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে গোপালগঞ্জ সদরের মান্দারতলা এলাকায় নিগি ফিলিং স্টেশনের সামনে গাছের গুড়ি ফেলে এই অবরোধ করা হয় বলে জানান থানার এসআই রেজাউল করিম।
মহাসড়কের দুই পাশে অর্ধশত যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রী-চালকসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। এক ঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে বিক্ষুব্ধদের অনুরোধ করলে তারা অবরোধ তুলে নেন। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এর আগে তেল সংকটের কারণে গোপালগঞ্জের পৌর এলাকার সাতটি ফিলিং স্টেশনে ভোর থেকেই জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
অবরোধকারী আশিক আলম, সামাদ কায়েস, সাকিব শেখ অভিযোগ করে বলেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তারপরও তাদের তেল দেওয়া হচ্ছে না। তেল নিতে তারা ভোর থেকেই অপেক্ষা করে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকুরীসহ কাজ কর্মে ছন্দ পতন ঘটেছে। অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।
তাই তারা দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
নিগি ফিলিং স্টেশনের মালিক মফিজুর রহমান মফিজ বলেন, “গভীর রাত পর্যন্ত তেল দিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত কাজ করতে গিয়ে পাম্পের কর্মচারীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এমনকি কোনো-কোনো কর্মচারী চাকরি ছেড়ে দিয়েছে।
“এ কারণে তেল সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, সরবরাহ করতে।”
এস আই রেজাউল করিম বলেন, ঢাকা খুলনা-মহাসড়ক অবরোধ করার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে ও গাছের গুড়ি সরিয়ে ঢাকা খুলনা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে দেই। পৌনে ৪টার পর মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এ কর্মকর্তা আরও জানান, বিকালে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার আহমেদ এবং ফারদিন খান প্রিন্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে তদারকি করে জ্বালানি তেল বিতরণ শুরু করেন। তারপর সেখানে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।




