ঈদের ছুটি: ঢাকায় ফেরার তাড়া শুরু, অনেকে আজকে যাচ্ছেন গ্রামে
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি শেষ হচ্ছে আজ সোমবার। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় ফেরার তাড়া শুরু হয়েছে অনেকের। তবে ভিন্ন চিত্রও আছে। কারও কারও জন্য আজ থেকেই শুরু হচ্ছে ‘ঈদের ছুটি’। তাই আজও অনেকে ঢাকা ছেড়ে রওনা হচ্ছে গ্রামের উদ্দেশে।
আজ সকাল আটটার দিকে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ঘরমুখী মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। যাত্রী দেখলেই বিভিন্ন বাস কোম্পানির প্রতিনিধিরা গন্তব্য ও বাসের নাম বলে যাত্রী ডাকছেন। টার্মিনালে যাত্রী পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন বাস কোম্পানির প্রতিনিধিরা। যাত্রীদের দ্রুত বাসে ওঠার জন্য প্রতিনিধিরা উৎসাহিত করছেন।
যাত্রীদের বেশির ভাগই কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটছেন না। তাঁরা মূল সড়কের পাশে জটলা পাকিয়ে দাঁড়াচ্ছেন। প্রত্যাশিত গন্তব্যে যখন যে বাস ছাড়তে দেখছেন, ভাড়া নিয়ে দর–কষাকষি করে তাতেই উঠে পড়ছেন। ফলে টার্মিনালের ভেতরটা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা ফাঁকা দেখা গেছে।
টার্মিনালের ভেতরে দুই হাতে বাঁশের দুটি লাঠিতে ভর করে হাঁটছিলেন বয়স্ক এক নারী। কাছে গিয়ে কথা বলে জানা গেল, তাঁর নাম রহিমা বেগম। বয়স ৭০ বছর বলে জানালেন নিজেই। বললেন, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মেয়ের বাড়িতে যাবেন। টিকিট কাটতে কাউন্টারে যাচ্ছেন।
ঈদ শেষে মেয়ের বাড়ি যাওয়ার কারণ জানিয়ে রহিমা বললেন, ‘ঈদের আগে তো ভাড়া অনেক বাইড়া যায়গা। সাড়ে ৫০০ টেকার ভাড়া হয় ৮০০-৯০০ টেকা। তহন গেলে তো খরচা বেশি। আর রাস্তাত তহন বেশি ঝামেলা তাহে বাজান।’
রহিমা আরও বলেন, ‘এহন যাইতাসি, কোনো ঝামেলা নাইকা। গাড়িতে উডুম আর বাইত যাইমু। আর মাইয়ার বাইত কয়ডা দিন আয়েশ করুম।’
এই কথা বলেই মুচকি হাসেন রহিমা। পরে কথা হয় তাঁর সঙ্গে থাকা নাতি জনি মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, ঢাকায় তাঁর পরিবারের সঙ্গেই নানি (রহিমা) থাকেন। তাঁদের বাসা মিরপুরের কালশীতে।
টার্মিনালের বাইরে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন সহাদেব দাস। সঙ্গে স্ত্রী জীবন্তি দাস ও মেয়ে জয়া রানী দাস। তাঁদের গন্তব্য বগুড়ার নন্দীগ্রাম। ঢাকায় থাকেন ডেমরায়।
ঈদে কি ছুটি পাননি—জানতে চাইলে সহাদেব জানান, তাঁর চুল কাটার সেলুন আছে। সেখানে নিজে কাজ করেন, সহকারীও আছে।
সহাদেব গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঈদের আগে বাড়ি যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। এক-দেড় সপ্তাহ আগে থেকে কাজের চাপ বেড়ে যায়। চাঁদরাতে সারা রাত কাস্টমার থাকে। এমনকি নামাজের পরেও অনেক কাস্টমার আসে। তাই ঈদ শেষ করেই একবারে গ্রামে যাই।’
গত ১৫ বছরে ঈদের এক-দুই দিন পর এমন সময়েই বাড়ি যান বলে জানালেন সহাদেব।
গাবতলী বাস টার্মিনালে হানিফ এন্টারপ্রাইজের ১ নম্বর কাউন্টারের মাস্টার রাব্বি হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সকাল ৬টায় খুলনার উদ্দেশে তাঁদের প্রথম বাসটি ছেড়েছে। আর সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মোট তিনটি বাস তাঁরা ছেড়েছেন। সব কটি বাসেই যাত্রী প্রায় পূর্ণ।
গাবতলী টার্মিনাল থেকে কিছু দূর সামনে গাবতলী-আমিনবাজার সেতুর গোড়ায় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে বিভিন্ন পরিবহনের অন্তত ১০টি বাস যাত্রীর অপেক্ষায় ছিল।
সেখানে কথা হয় রাজশাহী গন্তব্যের যাত্রী জামিল হোসেনের সঙ্গে। তিনি দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সঙ্গে বড় বড় ব্যাগ ছিল। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ইনচার্জের কাজ করেন তিনি।
জামিল গণমাধ্যমকে জানান, ঈদে তাঁর দুজন সহকর্মী ছুটি কাটিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন গতকাল রোববার কাজে যোগ দিয়েছেন। আর তিনি আজ থেকে ছুটিতে যাচ্ছেন।





