ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৫০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে টানা তিন ঘণ্টা এই সংঘর্ষ চলে। এ ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোয়ালনগর ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থক রহিম তালুকদার গ্রুপ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক কাশেম মিয়া গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মকর্তাকে জাল ভোটে প্ররোচনার অভিযোগে মো. জিয়া মিয়া নামে একজনকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দণ্ডবিধির ১৭১ ধারায় ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।
জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গত তিন দিন আগে জিয়া মিয়া এলাকায় ফেরেন। তার সন্দেহ ছিল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী কামরুজ্জামান মামুনের পক্ষের শিশু মিয়া সেনাবাহিনীর কাছে তথ্য দিয়ে তাকে গ্রেফতারে সহযোগিতা করেছিলেন। এই সন্দেহ থেকে সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে শিশু মিয়াকে একা পেয়ে মারধর এবং তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে জিয়া মিয়ার লোকজন। এর জেরে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে।
এ নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয় এবং চলতে থাকে সংঘর্ষের প্রস্তুতি। দুপুর ২টার দিকে কাশেম মিয়ার লোকজন গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করে। একইভাবে রহিম তালুকদারের লোকজন লালুয়ারটুক জামে মসজিদ থেকে সংঘর্ষে অংশ নেয়ার আহ্বান জানায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা ও চাতলপাড় ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে দুই পক্ষের প্রতিনিধি রহিম তালুকদার ও কাশেম মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক বলেন, ‘জাল ভোট নিয়ে সন্দেহ ও ভুল-বোঝাবুঝি থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। সংঘর্ষ বড় আকারের হয়েছে। এতে অনেকে আহত হয়েছেন। তবে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
নাসিরনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং সেখানে অবস্থান করছি। সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় মামলা দায়ের করেনি।’




