অফিস সময়ে চিকিৎসকেরা ক্লিনিকে যাচ্ছেন কি না দেখবে গোয়েন্দারা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
অফিস সময়ে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ক্লিনিকে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছেন কি না, তা নজরদারিতে গোয়েন্দা সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে রোগীদের জন্য দেওয়া সরকারি বিনামূল্যের ওষুধ বাইরে বিক্রি বন্ধেও গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত ৪ মার্চ শরীয়তপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট রাজেশ মজুমদার বায়োমেট্রিক হাজিরা দিয়ে অফিস সময়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখতে যান। ওই ঘটনায় তার বিএমডিসি নিবন্ধন ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি তাকে কেন চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না, তা তিন দিনের মধ্যে জানাতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে শরীয়তপুরের সিটি আধুনিক ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সব কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীরা ছাড়পত্র পাওয়ার আগপর্যন্ত সেখানে থাকতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে জানাতে ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি ও সেবাদানের বিষয়টি তদারকিতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছি। কীভাবে নিচ্ছি, তা প্রকাশ করব না। আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলছে এটা বন্ধ করার জন্য।’
কেউ এ ধরনের কাজ করলে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমি আশা করব কেউ যেন এ ধরনের শাস্তি না পায়। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাই যেন সতর্ক হন।’
হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে অল্প খরচে উন্নত সেবা দিতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি।’
রোগীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি বন্ধে গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়া হবে জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা (অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন) সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে গতকাল নির্দেশ দিয়েছি, আমাদের জন্য আলাদা একটি চিহ্ন বা মার্ক করে দিতে, যাতে বোঝা যায় এটি “বিক্রির জন্য নয়”। গোয়েন্দা বিভাগকে আমরা বলেছি, তারা লক্ষ্য রাখবেন ওই ওষুধ কেউ বাইরে বিক্রি করছে কি না।’
রোগ শনাক্তে মেডিকেল পরীক্ষার ফি নির্ধারণে সরকার উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সবার সহযোগিতা চেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ক্লিনিকের মালিকদের সঙ্গে সমন্বিতভাবেই আমাদের স্বাস্থ্যসেবা সব জায়গায় পৌঁছে দিতে হবে। পারব না বলব না, আবার এখনই পারব—এটাও বলব না।’




