ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যারা অপকর্মে জড়িয়েছে, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছেন তাই সারা বাংলায় মারদাঙা জোয়ার উঠেছে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। সারা বাংলায় আমরা যেখানে যাচ্ছি সেখানেই মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। বিশেষ করে জুলাইযোদ্ধা যারা সেই যুবসমাজ মুখিয়ে আছে ১৩ তারিখ থেকে নতুন এক বাংলাদেশ দেখার জন্য। যুবকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে তারা কি আধিপত্যবাদের পক্ষ নেবে, নাকি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যারা মাথা উঁচু করে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাদের পক্ষ নেবে। তারা বুঝতে পেরেছে জুলাইয়ের যে চেতনা যে আকাঙ্ক্ষা কাদের দ্বারা বাস্তবায়ন হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে দেশের জনগণ যাদের হাতে নিরাপদ নয়, যারা চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়েছে, ক্ষমতায় যাওয়ার পরে তাদের হাতে দেশের জনগণ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।
শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালীতে এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে এ জনসভা হয়। এতে জেলার ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা চাই না সাড়ে ১৫ বছরের সেই দুঃশাসন আবার বাংলাদেশে ফিরে আসুক। এ কারণে ১২ তারিখ দুইটা ভোট হবে। প্রথম ভোটটা হলো সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট। হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি।
আমিরে জামায়াত বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে পেরেছে তাদের হাতে যদি দেশ যায় তাহলে ভালোবাসার একটি দেশ তৈরি করা সম্ভব; কিন্তু যারা ভালোবাসতে পারেন নাই, বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন- ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যাদের হাতে দেশের জনগণ নিরাপদ নয়, তারা ক্ষমতায় যাওয়ার পরে এ দেশের জনগণ আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।
পরে আমির নোয়াখালীর ৬টি আসনের চারজন দাঁড়িপাল্লা ও দুইজন শাপলা কলির প্রার্থীকে জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আগামী নির্বাচনে তাদের জয়ী করে দেশ গড়ার কাজে সহযোগিতা করতে বলেন।
জামায়াতে ইসলামী বিগত আমলে সবচেয়ে নির্যাতিত দল উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে চরমভাবে নির্যাতিত একটি দল জামায়াতে ইসলামী। যে দলের ১১ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। যে দলের অফিসগুলো সারাটা সময় ধরে বন্ধ ছিল। এমন একটি অবস্থার পর ৫ তারিখ পেলাম।
জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের মামলা হামলা করে নাজেহাল করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে। গুম করা হয়েছে। আমরা এই ধরনের মিথ্যা মামলা গিয়ে হয়রানি করব না। আপনারা সাক্ষী আমরা মামলা বাণিজ্য করিনি। আমাদের সহকর্মীদের দ্বারা আপনাদের, দেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতেও হবে না।
নারীদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, মায়েরা, বোনেরা বুঝতে পেরেছেন, তাঁদের জীবন-ইজ্জত কার কাছে নিরাপদ। এ জন্য তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। আমরা মায়েদের–বোনদের কথা দিচ্ছি আল্লাহ যদি আপনাদের ভোটের মাধ্যমে, ভালোবাসার মাধ্যমে দেশসেবার দায়িত্ব আমাদের হাতে তুলে দেন, আমাদের সব যোগ্যতা উজাড় করে আপনাদের আস্থার প্রতিদান দেব। আমাদের মায়েরা সেদিন ঘরে চলাচলে ও কর্মস্থলে শতভাগ নিরাপত্তা উপভোগ করবেন।
জেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ইসহাক খন্দকার এ জনসভার সভাপতিত্ব করেন। এতে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মো. আলাউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি শাহ মাহফুজুল হক, নোয়াখালী-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী সাইফ উল্যাহ, নোয়াখালী-২ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের (এনসিপি) প্রার্থী সুলতান জাকারিয়া মজুমদার, নোয়াখালী-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. বেলায়েত হোসেন, নোয়াখালী-৬ আসনে ১১–দলীয় জোটের (এনসিপি) প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ প্রমুখ।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নোয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী মো. বোরহান উদ্দিন এ সভার সঞ্চালনা করেন।




