সামিটের আজিজ খানকে দুদকে তলব
‘অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের’ অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খানকে হাজির হতে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আগামী বৃহস্পতিবার তাকে দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়িক গোষ্ঠীটির প্রধান কার্যালয়ে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
একই সঙ্গে সামিট গ্রুপের শেয়ার হস্তান্তর সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্রও চেয়েছে দুদক।
সোমবার সংস্থার উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম তলবি চিঠি পাঠানোর বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আজিজ খানের দেশে আসার খবর পাওয়া যায়নি। সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব নেওয়া এই বাংলাদেশি ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন থেকে সেই দেশে বসবাস করে আসছেন।
দুদকের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আজিজ খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা নোটিসে বলা হয়েছে, “নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানে ব্যর্থ হলে বর্ণিত অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার কোনো বক্তব্য নেই মর্মে গণ্য করা হবে।”
সামিট গ্রুপ ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গ্রুপের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের’ অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে।
আজিজ খানসহ তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের পাশাপাশি তাদের সম্পদও জব্দ করেছে আদালত।
সামিটের চেয়ারম্যঅনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এ নোটিস পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে অনুসন্ধানের সময় পর্যালোচনায় পাওয়া রেকর্ডপত্র অনুযায়ী দুদক বলেছে, সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লি. এর অনুকূলে সামিট করপোরেশন লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ আজিজ খান ২২,৬০,৭৮,৪৮৯টি অর্ডিনারি শেয়ার হস্তান্তর বাবদ ২২৬,০৭,৮৪,৮৯০ টাকা, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আজিজ খান ৩,২৭,১৪,৬২৯টি শেয়ার হস্তান্তর বাবদ ৩২,৭১,৪৬,২৯০ টাকা, ভাই মোহাম্মদ ফরিদ খান ৭০,৯৯,৯৩,৭৯০ টাকা, মেয়ে আয়েশা আজিজ খান ২১৯,০৮,০৪,৬৯০ টাকা, সানাদিনা খান ৩৯,২৫,৮০,৭৯০ টাকা, সালমান খান ৩৯,২৫,৮০,৭৯০ টাকা, জাফর উম্মীদ খান ৫২,৩৪,৬২,৮৯০ টাকা, ভাই লতিফ খান ৬৫,৪৯,৯৯,৯৯০ টাকা, ভাইয়ের ছেলে মোহাম্মদ ফয়সাল করিম খান ৩৭,৫৮,৭৮,২৯০ টাকা, ফাদিয়াহ খালেদা খান ২৫,০৫,৮৯,৮৯০ টাকা, ফারহান করিম খান ৩৭,৫৮,৭৮,২৯০ টাকা, ফারহানা খালেদা খান ২৫,০৫,৮৯,৮৯০ টাকা এবং আজহাবুল হক ১,৩০,৯৯,৯৯০ টাকা গ্রহণ করেছেন বলে রেকর্ডপত্রে দেখা যায়।
দুদক জানতে চেয়েছে, এসব শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কিনা এবং অনুমোদন নেওয়া হয়ে থাকলে তার সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র। পাশাপাশি শেয়ার হস্তান্তর বাবদ গ্রহণ করা অর্থ বাংলাদেশে এসেছে কিনা। এবং এ সংক্রান্ত দলিলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এসব তথ্য জমা দিতে চিঠি পাঠিয়েছেন।
গত ৫ অগাস্ট অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ভাই সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খানের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নেয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা।
এর অংশ হিসেবে ৭ অক্টোবর আজিজ খানসহ পরিবারের ১১ সদস্যের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাদের সবার ব্যাংক হিসাব ৩০ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেয়।
অপরদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য এবং ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে রাষ্ট্রের তিনটি সংস্থা একযোগে কাজ করছে।
অর্থ পাচার, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধানে গঠিত যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি) এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এই যৌথ তদন্ত দলে দুদককে মূল ভূমিকায় রেখে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একসঙ্গে কাজ করছে। পুরো কার্যক্রমের সমন্বয় করছে অর্থ পাচার প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ।
‘পাচার করা’ অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে সামিট গ্রুপসংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনকে। এ দলে তার সঙ্গে রয়েছেন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জিন্নাতুল ইসলাম এবং মো. নাসরুল্লাহ হোসাইন।




