লাতিন আমেরিকার নৌযানে মার্কিন হামলায় নিহত আরও ৮
সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিচালিত একাধিক নতুন হামলায় আরও আটজন নিহত হয়েছে। এর ফলে ওয়াশিংটনের বিতর্কিত মাদকবিরোধী অভিযানে নিহতের মোট সংখ্যা অন্তত ১১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানগুলো নিয়ে সমালোচনা করছে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক দুটি অভিযানে তারা পাঁচটি নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এরমধ্যে আন্তর্জাতিক জলসীমায় তিনটি নৌযানের একটি বহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। প্রথম নৌযানটিতে থাকা তিন জন আরোহী নিহত হয়। বাকি নৌযানগুলোতে থাকা ব্যক্তিরা সাগরে ঝাঁপ দিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করে। এ সময় নৌকাগুলোকে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
বুধবার অপর একটি হামলায় আরও দুটি নৌযান ধ্বংস করা হয়। এ হামলায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
গত সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে সাউথকম। তবে এসব নৌযান যে প্রকৃতপক্ষে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল, তার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি পেন্টাগন।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক আইনবিদরা এই অভিযানগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, বেসামরিক বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই এভাবে সরাসরি প্রাণঘাতী হামলা চালানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সামুদ্রিক আইনের চরম লঙ্ঘন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক বা সরাসরি হুমকি না হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়েছেন। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক কার্টেল চালানোর অভিযোগ তুলে তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তবে মাদুরো এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ওয়াশিংটন মূলত ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের দখল নিতে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের চক্রান্ত করছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন ল্যাটিন আমেরিকার বেশ কিছু ড্রাগ কার্টেলকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। যাকে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।




