জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা: বাড়ল ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম
বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই নতুন মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মার্কিন উপকূলে ধেয়ে আসা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ৯৩ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৫১ ডলারে পৌঁছেছে।
একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯০ দশমিক ২৫ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। দুটি শীর্ষ বেঞ্চমার্কেই প্রায় এক শতাংশের কাছাকাছি এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ববাজারে নতুন করে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত দুটি বড় কারণে তেলের বাজারে এই আকস্মিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে:
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদনকারী প্রধান অঞ্চলগুলোর দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উপকূলে থাকা তেল শোধনাগার এবং নিষ্কাশন কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত বা স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা বাজারের সরবরাহ চেইনে তাৎক্ষণিক ধাক্কা দিতে পারে।
সৌদি আরবে হুথিদের হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা: মধ্যপ্রাচ্যে তেলের অন্যতম শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার হুমকি ও তৎপরতা জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। যেকোনো ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলবে এমন আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই তেল মজুত ও কেনায় জোর দিচ্ছেন।
বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী অন্যান্য দেশ থেকে বিশ্ববাজারে বাড়তি তেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির পাল্লা এতই ভারী যে, সেই বাড়তি সরবরাহের প্রচেষ্টা বাজারে বড় কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারছে না।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সরবরাহ ব্যবস্থার এই অনিশ্চয়তা দ্রুত কেটে না গেলে এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকট না কমলে বিশ্ববাজারে তেলের দর আরও বেশ কিছুদিন চড়া থাকতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর।




