ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতি হামলায় নিহত বেড়ে ৫
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় এডেন নগরীর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ জন।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) হামলার পরপরই প্রাথমিকভাবে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী কাশিম বুহাইবেহ পরবর্তীতে নিহতের সংখ্যা পাঁচজন বলে নিশ্চিত করেন। হতাহতদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াও বেসামরিক কর্মচারীরা রয়েছেন।
দেশটির তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরিয়ানি জানিয়েছেন, হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা অক্ষত ছিলেন। তবে প্রত্যক্ষ দর্শীরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তারা প্রাসাদের কাছে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
বর্তমান সংঘাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রশাসনিক কেন্দ্র ‘আল-মাশিক’ প্রাসাদে হুতিদের এটিই প্রথম হামলা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যে বৃহত্তর যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, এটি তারই এক নতুন রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। তবে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাদের যোদ্ধারা এডেনে অবস্থিত ‘সৌদি সামরিক অভিযান সদরদপ্তরে’ সফল হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, একই দিন সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হুতিদের চালানো ধারাবাহিক হামলার খতিয়ান প্রকাশ করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, চলতি মাসেই রিয়াদের প্রধান বিমান চলাচল কেন্দ্র ‘কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে’ ২০ দফা হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এসব হামলায় ১৭ জন নিহত ও ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া দক্ষিণ -পশ্চিমাঞ্চলীয় আভা বিমানবন্দরে হামলায় ৩ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর, উড়োজাহাজ ও বিমান চলাচলের অবকাঠামোতে এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সৌদি আরব সহায়তা দেওয়ায় হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলো বাদে সৌদি আরবের কয়েক ডজন বিমানবন্দর, বন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাকে হুতিরা হামলার নিশানা করেছে।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরির পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাও হুমকির মুখে পড়েছে।
জোটের মুখপাত্র অভিযোগ করেন, ইরানের সহায়তায় হুতিরা উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিস্ফোরকবোঝাই দ্রুতগতির নৌকা সংগ্রহ করেছে। তবে তেহরান এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
জোট মুখপাত্র আরও জানান, ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চলে হুতিদের ১২৭টি অস্ত্রাগার ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করেছে জোট বাহিনী। এ ঘটনার পরপরই পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীর আকাশসীমা বাদে সৌদি আরবের পুরো আকাশপথ ও বিমানবন্দর গুলোকে অনিরাপদ দাবি করে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে পুনরায় সতর্কবার্তা দিয়েছে হুতিরা।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের আকাশে প্রবেশ করা দুটি হুতি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি জোট।





