নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়তে পারে: তথ্য উপদেষ্টা
সরকারি চাকুরেদের জন্য সরকার সোমবার যে বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে, তাতে মূল্যস্ফীতির পারদ কিছুটা চড়তে পারে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি এখন, ব্যাপারটা তাই না? বেশি। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন থেকে আমাদের মূল্যস্ফীতির যে পার্সেন্টেজ, ইটস হাই। আমাদের মতো একটা দেশে অবশ্য কিছু মূল্যস্ফীতি থাকাও উচিত। এটা ৫% পর্যন্ত, ৬% পর্যন্ত হলে ইটস গুড বা চলে। কিন্তু আমাদের এটা ডাবল ডিজিটে পৌঁছে গেছে, ক্রস করেছে। এই মুহূর্তে আবার খানিকটা কমেছে, অন্তত আমাদের ডেটা যা বলছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারির বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তথ্য উপদেষ্টা।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এই পরিমাণ মানুষের কাছে যদি আসলে তাদের (সরকারি চাকরিজীবীদের) বেতন বৃদ্ধি পায়, কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে। অনেক সিনিয়র এমপ্লয়িজ আছেন, যারা তাদের বেতনের ইনক্রিমেন্ট হতে হতে তাদের যে বেতনটা নতুন স্কেলে হবে, তার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। সুতরাং অনেক বেশি টাকা যে মানুষের হাতে পৌঁছে যাবে, এই যে একটা আশঙ্কা করছে না যে— সরকার এত ব্যয় কোত্থেকে নির্বাহ করবে (ব্যয় বাড়বে, সে ব্যয়ের জন্য সরকারের বাজেট আছে), ইনফ্লেশন কিছুটা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই তা না, ইনফ্লেশনের কিন্তু সম্ভাবনা আছে কিছুটা।
নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন নিয়ে উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেটা কীভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটার একটা রোডম্যাপ জানানো হয়েছে। দুটো খুব সিগনিফিক্যান্ট ফাইন্ডিং আমি একটু বলতে চাই। একটা হচ্ছে— বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সন্তান যদি কোনো কর্মী থাকে, তিনি ৩ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন। আমি এটাকে একটা খুবই যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করি।
কেন এই ভাতাকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলা হচ্ছে, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, আমি বলছি না ৩ হাজার টাকা অনেক টাকা হয়ে গেছে, এটা দিয়েই যে সব সমস্যার সমাধান করে ফেলা যাবে আমি তাও বলছি না। কিন্তু আমরা জানি এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষ কেয়ার প্রয়োজন, চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের জন্য বিশেষ স্কুল প্রয়োজন। সবকিছুর জন্যই রাষ্ট্র, এই সরকার এটাকে রিকগনাইজ করছে এবং কিছুটা হলেও এটা তাদের সাহায্য করবে। আমরা আশা করি, রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে—রাষ্ট্র যখন কোনো বিষয়কে রিকগনাইজ করে যে, আমি রিকগনাইজ করছি এটা নিয়ে মানুষের কষ্ট আছে, মানুষের প্রয়োজন আছে—আমরা আশা করতে পারি অচিরেই এই ভাতার পরিমাণ আরও বাড়বে। এটা খুবই বড়ো একটা ব্যাপার।
সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রেড-১ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা নিয়ে তিনি বলেন, দ্বিতীয় ব্যাপার হচ্ছে, একটা সমালোচনা যৌক্তিকভাবে সবসময় ছিল যে, আমাদের গ্রেড-১ (সারা পৃথিবীতে এই হিসাবটা আছে, আপনারা খুঁজলে দেখবেন) এবং সর্বশেষ গ্রেডের মধ্যে রেশিওটা কত—তাদের কম্পেনসেশনের রেশিও কত? এটা বাংলাদেশে অনেক উঁচু, বিপুল। এটা যত কম থাকে তত ভালো।
বৈষম্য কমাতে সরকারের চেষ্টা আছে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, আপনারা দেখবেন সেটারও একটা চেষ্টা আছে এই বৈষম্য কমানোর জন্য। প্রথম ১০টা গ্রেডে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি হবে ১০০ পার্সেন্ট সর্বোচ্চ, আর পরের যে ১০টা গ্রেড আছে, সেগুলোতে ১৪২ পার্সেন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। তাহলে আমরা গ্রেড-১ এবং গ্রেড-২০ এর মধ্যে যে রেশিও ছিল, সেই গ্যাপটা, সেই রেশিওটা কমে আসবে। এটাও বৈষম্য কমানোর মতো একটা পদক্ষেপ বলে মনে করি।




