‘হুট করেই’ বিয়ে হয়ে যাবে, বললেন কেয়া পায়েল
‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ নামে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর বিয়ে নিয়ে আলোচনায় আসেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। তবে সেটি ছিল তাঁর প্রথম ওয়েব ফিল্মের ঘোষণা। এবার অভিনেত্রী জানালেন, বিয়ে অবশ্যই করবেন, আর যখন করবেন তখন ‘হ্যাপিলিই’ হবেন।
গত ১৫ জুলাই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’—এই দুই শব্দের একটি পোস্ট দিয়েছিলেন কেয়া পায়েল। সঙ্গে দিয়েছিলেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভর ছবি। হঠাৎ দেখে অনেকে মনে করেছিলেন, সত্যিই বিয়ের কাজটা সেরে ফেলেছেন অভিনেত্রী। পরে জানা যায়, সেটি ছিল তাঁর প্রথম ওয়েব ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর ঘোষণা।
জাহিদ প্রীতম পরিচালিত, চরকি প্রযোজিত ও ছবিয়াল সহপ্রযোজিত ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের এই ফিল্মটি চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে ৭ অক্টোবর রাত ১২টায়। কনটেন্ট মুক্তির ঘোষণার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। মন্তব্যের ঘরে অনেক নেটিজেন মজা করে জানতে চাইছেন, অভিনেত্রী কেয়া পায়েল কবে সত্যি সত্যি ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ হবেন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথাটি লিখবেন?
ব্যক্তিগত হলেও প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যাননি অভিনেত্রী। সিনেমাটি মুক্তি উপলক্ষে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, অবশ্যই বিয়ে করবেন এবং যখন করবেন, ‘হ্যাপিলিই’ হবেন।
অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী। দেখা যাক, কবে এটা হয়। যখন ভাগ্যে লেখা আছে, তখনই হবে এবং সবাই সেটা জানতে পারবে। কিন্তু আমার কেন যেন মনে হয়, এটা হুট করেই হয়ে যাবে।’
তবে এসব নিয়ে ভাবার চেয়ে এখন কাজেই বেশি ব্যস্ত আছেন কেয়া পায়েল। নাটক, বিজ্ঞাপন ও ফ্যাশন রানওয়েতে কাজ করছেন তিনি। অক্টোবরের শুরুর দিকে যাচ্ছেন দেশের বাইরে। তাই যতটা পারছেন, কথা দিয়ে রাখা কাজগুলো শেষ করে যাচ্ছেন। জানিয়েছেন, দেশে ফিরবেন অক্টোবরের শেষ দিকে।
টিভি নাটকে দেখার পর দর্শক-ভক্তদের ইচ্ছা এখন কেয়া পায়েলকে সিনেমায় দেখা। অনেক আগে থেকেই প্রস্তাব পেয়ে আসছেন বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
তাহলে করছেন না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কেয়া পায়েল বলেন, ‘অফার তো অনেক এসেছে। বিশেষ করে ওয়েব ফিল্ম। যখন থেকে বাংলাদেশে ওয়েব ফিল্ম শুরু হয়েছে, তখন থেকেই অফার পেয়ে আসছি। কিন্তু সব সময় আমার মনে হয়েছে যে এমন কোনো চরিত্রে, এমন কোনো গল্পে কাজ করতে হবে, যেখানে মানুষ আমাকে একটু আলাদা করতে পারবে। আমি যেহেতু রেগুলার নাটকে কাজ করি, তাই নাটকের বাইরে ফিল্মে বা ওয়েব ফিল্মে যখন কাজ করব, আমি চাই, সেখানে যাতে স্পেশাল পায়েলকে দেখতে পায়।’
‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ তাঁকে সেই সুযোগ দিয়েছে বলে মনে করেন পায়েল। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার মনে হয়েছে, এটা এমন একটা ফিল্ম, যেখানে দর্শক আমাকে ভিন্নভাবে দেখতে পারবেন।’
কেয়া পায়েল আরও বলেন, ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর টিমও খুব সহযোগিতা করেছে। পরিচালক জাহিদ প্রীতম সম্পর্কে তাঁর ভাষ্য, ‘তিনি খুবই বিনয়ী। সবকিছু মিলিয়ে এটা আমার খুবই ভালো অভিজ্ঞতা।’
ওয়েব ফিল্মে কেয়া পায়েলের বিপরীতে আছেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। এই বিষয়টিও অভিনেত্রীকে কাজটি নিতে আগ্রহী করেছে।
সহ-অভিনেতা নিয়ে কেয়া পায়েলের মতামত, একজন হিরোর যেসব গুণ থাকা উচিত এবং সেটে একজন হিরোর যে প্রেজেন্সটা সবাই চায়, তার সবই আরিফিন শুভর আছে। বিষয়টি কেয়া পায়েলকে মুগ্ধ করেছে।
অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘শুভ ভাই খুবই আন্তরিক, অনেক পেশাদার, চুপচাপ এবং সহযোগিতা করেন। প্রথম দিকে আমি ভাবছিলাম যে আসলে পারব কি না। তিনি সিনিয়র এবং এত অভিজ্ঞতা, কিন্তু কাজ করতে গিয়ে আমার এই জিনিসটা একদম ফিল হয়নি। তাঁর সঙ্গে কাজ করে খুব ভালো লেগেছে।’
সেনশন প্রেজেন্টস ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ নিয়ে কেয়া পায়েল রোমাঞ্চিত। ভক্ত-দর্শকদের উদ্দেশে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার প্রথম ওয়েব ফিল্ম। গল্পটা দারুণ; আমরা সুন্দর করে কাজটি করেছি। আমি চাই, আমার ফ্যানরা কাজটি দেখুন, দেখে তারপরে বলুন কেমন লেগেছে। অবশ্যই ভক্তদের জন্য ভিন্নধর্মী কিছু নিয়ে এসেছি।’




