জাতিসংঘে হুংকার, সি চিন পিংয়ের সামনে নরম: ট্রাম্পের প্রভাব কি কমে আসছে?
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আলোচিত ভাষণ এবং হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান নতুন করে জানান দিতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত এক সপ্তাহের এই কূটনৈতিক তৎপরতা দেশ ও বিদেশে তাঁর সামনে থাকা সমস্যাগুলো কাটাতে খুব একটা কাজে আসেনি; বরং তাঁর পররাষ্ট্রনীতির সীমাবদ্ধতাই বেশি প্রকাশ পেয়েছে।
ট্রাম্প বর্তমানে বেশ কিছু বড় সংকটের মুখে রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিস্তৃত হতে থাকা ইরান যুদ্ধ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। ইরান অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও পিছু হটেনি, যা ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি কঠিন অচলাবস্থা তৈরি করেছে।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প হুংকার দিয়ে বলেন, “ইরান হয় চুক্তিতে রাজি হবে, না হয় দেশটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে।” কিন্তু ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক মিত্রই এই সংঘাতে তাঁকে সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকটি বেশ জাঁকজমকপূর্ণ হলেও এর বাস্তব ফলাফল ছিল অত্যন্ত সীমিত। দুই নেতার বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বাণিজ্য, তাইওয়ান ও ইরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো ছাড়া বড় কোনো চুক্তি হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সি চিন পিং ও ক্রমবর্ধমান চীনা শক্তির প্রসঙ্গ এলেই ট্রাম্পের কড়া অবস্থান অনেকটা নরম হয়ে যায়। বিরল খনিজের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তি খাতে তাদের আধিপত্যের কারণে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি অনেকটাই বুমেরাং হয়েছে।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির হেরে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতারাও মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রভাব কমার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জাতিসংঘে পরোক্ষভাবে ট্রাম্পের শক্তিপ্রয়োগের নীতির সমালোচনা করেছেন।
ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রেমার মন্তব্য করেছেন, “এক বছর আগে খুব কম দেশই ট্রাম্পের বিরোধিতা করার সাহস পেত। কিন্তু এখন কানাডা, চীন, ইরান, রাশিয়াসহ অন্যরা আরও বেশি করে ‘না’ বলতে প্রস্তুত।” সব মিলিয়ে, ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি দিয়ে বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের যে চেষ্টা ট্রাম্প চালাচ্ছেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বাধার মুখে পড়ছে এবং তাঁর প্রভাব ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।




