মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্টে প্রথম রানারআপ ‘মাটি’
বাংলাদেশের প্রথম মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬-এ ন্যাশনাল ক্যাটাগরিতে প্রথম রানারআপ হয়েছে তরুণ নির্মাতা রাকায়েত রাব্বি ও সৈয়দ সাহিল পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাটি’। অবৈধ অভিবাসনের নির্মম বাস্তবতা, প্রিয়জন থেকে বিচ্ছিন্নতার বেদনা এবং এর ফলে ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনে নেমে আসা গভীর ট্র্যাজেডিকে সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরার স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মান অর্জন করেছে চলচ্চিত্রটি।
অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন ইন বাংলাদেশ এবং ব্র্যাকের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে বিশ্বের ২৪টি দেশ থেকে এক হাজারেরও বেশি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। সেখান থেকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয় ৫৭টি চলচ্চিত্র। পরে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য স্থান পায় ২৩টি চলচ্চিত্র।
গেল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি।
ন্যাশনাল ক্যাটাগরিতে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার জেতে ‘হাউ ডু ইউ ডু’। প্রথম রানারআপ হয় ‘মাটি’ এবং দ্বিতীয় রানারআপের সম্মান পায় ‘দ্য লাস্ট প্যাসেজ’।
পুরস্কার অর্জনের পর নির্মাতা রাকায়েত রাব্বি বলেন, ‘মাটি’ মূলত অবৈধ অভিবাসনের কারণে একজন মানুষের জীবনের শেষ সময় কিংবা মৃত্যুর পরের বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত। তাঁর ভাষায়, উন্নত জীবন বা অর্থই মানুষের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। পরিবারের ভালোবাসা, প্রিয়জনের সান্নিধ্য, মায়ের হাতের রান্না কিংবা ছোট ছোট আবেগ-অনুভূতিই মানুষকে পরিপূর্ণ জীবন দেয়।
তিনি আরও বলেন, একজন মানুষের অন্যতম বড় আকাঙ্ক্ষা হলো মৃত্যুর পর নিজের দেশের মাটিতে সমাহিত হওয়া এবং প্রিয়জনের হাতে কবরে এক মুঠো মাটি পাওয়া। কিন্তু অবৈধ অভিবাসনের শিকার অনেক মানুষ সেই শেষ ইচ্ছাটুকুও পূরণ করতে পারেন না। সেই হৃদয়স্পর্শী বাস্তবতাই চলচ্চিত্রে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
সহ-পরিচালক সৈয়দ সাহিল জানান, দীর্ঘদিন ফ্রান্সের প্যারিসে বসবাসের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অবৈধ অভিবাসীদের জীবনসংগ্রাম এবং তাঁদের পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক যন্ত্রণাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন।
তিনি বলেন, “প্যারিসে বাঙালি কমিউনিটির অনেক মানুষকে দেখেছি, যারা প্রিয়জনকে হারিয়ে গভীর ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছেন। নিজের চোখে দেখা সেই বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলোই পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমাদের প্রত্যাশা, এই চলচ্চিত্র অন্তত একজন মানুষকেও নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করবে।”
মাসুদ মিয়ার প্রযোজনায় নির্মিত ‘মাটি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন আঞ্জুমান আরা শিরিন, মারশিয়া শাওন, ইমতিয়াজ রনি, আরিফ খান, নয়ন চৌধুরী এবং এলেন চৌধুরী। চলচ্চিত্রটির সম্পাদনা করেছেন নিসান মাহমুদ। চিত্রগ্রহণে ছিলেন পার্বত রায়হান ও মনির হোসেন। পোস্ট-প্রোডাকশনের সংগীত পরিচালনা করেছেন নাফিস হোসেন নিপু।
বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের প্যারিসের বিভিন্ন লোকেশনে ধারণ করা হয়েছে চলচ্চিত্রটির দৃশ্য। অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি, বিচ্ছিন্নতা, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং মৃত্যুর পরও নিজের দেশের মাটিতে ফিরে আসতে না পারার নির্মম বাস্তবতাকে হৃদয়স্পর্শীভাবে তুলে ধরে ‘মাটি’ বাংলাদেশের প্রথম মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্টে এই গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করেছে।




