উত্তরখানে শ্রমিক-পরিচ্ছন্নতাকর্মী সংঘর্ষ, আটক ৩
রাজধানীর উত্তরখানে পোশাক শ্রমিক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পেছনে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র থেকে ময়লা পরিবহন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
রোববার সকালে উত্তরখানের রাজাবাড়ি এলাকায় এ সংঘর্ষে কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন।
দুপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে তাঁদের উপস্থিতিতেই দ্বিতীয় দফায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে সিটি করপোরেশন।
আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, উত্তরখানের রাজাবাড়ি এলাকায় সিটি করপোরেশনের একটি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের সামনে নেপচুন অ্যাকসেসরিজ লিমিটেডের একটি পোশাক কারখানা রয়েছে।
তিনি বলেন, “বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র থেকে ময়লা পরিবহন নিয়ে আপত্তির জেরে দীর্ঘদিন ধরেই কারখানা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই আজ সকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা হয় এবং কয়েকজন আহত হন।”
তিনি আরও বলেন, ‘‘ঘটনার পর পরিস্থিতি দেখতে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতে সেখানে যান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য। “সেখানে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে দ্বিতীয় দফায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।”
প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের ওপর হামলা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “তাঁদের ওপর হামলা হয়নি। দুই দফায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আমীন জানান, ‘‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের কয়েক দিন ধরেই বিরোধ চলছিল। সকালে সংঘর্ষের পর দুপুরে প্রশাসক, সংসদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থলে গেলে আলোচনার একপর্যায়ে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।’’
তিনি বলেন, “পুলিশ গার্মেন্টসের এক কর্মকর্তাকে আটক করতে চাইলে শ্রমিকদের একটি অংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।”
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে নেপচুন অ্যাকসেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ করা হলেও পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের দক্ষিণখান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবুল হোসাইন বলেন, “হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করছে।”
হামলার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, “ময়লা ফেলা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। কোনো সমস্যা থাকলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা যেত। কিন্তু সেটি না করে হামলার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।”
উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, “সকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রাজাবাড়ি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রে কাজ করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা হয়। পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সংসদ সদস্য ঘটনাস্থলে গেলে নেপচুন অ্যাকসেসরিজের ভেতর থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। আমি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করেছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে জড়িতদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।”





