ইরানের কেশম দ্বীপে ৯০০ কেজি ওজনের বোমা ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় একটি বেসামরিক বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণেও হামলায় প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের একটি শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে চালানো ওই হামলায় কেশম দ্বীপের একটি পারিবারিক বাড়ি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়েছে। তবে পরিবারের আরও দুই সন্তান জীবিত রয়েছে।
ভিডিও ফুটেজ ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হামলায় সম্ভবত ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০০ কেজি) ওজনের মার্ক-৮৪ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বোমাগুলোর একটি।
অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা হামলার স্থানে সৃষ্ট গর্তের আকার এবং উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে এই ধারণা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলার সময় ও স্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তৎকালীন অভিযান পরিচালনার তথ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে।
এদিকে, জেরুজালেম পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার ইরানে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিসর আগের রাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। এই হামলাগুলো ছিল বিস্তৃত, ব্যাপক এবং কার্যকর।
নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি, যে বাড়িটিতে হামলা হয়েছে তার আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। হামলার পর ইরানি কর্তৃপক্ষও সেখানে কোনো সামরিক হতাহতের তথ্য দেয়নি।
ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার কারণে আশপাশের প্রায় ২০টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ গর্তের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০০ ফুট দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ তারা খতিয়ে দেখছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বা বেসামরিকদের সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এসব বিষয়ে তারা কিছু জানায়নি।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, আমরা এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করছি। মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনও বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে না।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজ স্যাটেলাইট চিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে হামলার স্থান ও বিস্ফোরণের মাত্রা যাচাই করা হয়েছে।




