কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ‘কাঠামোগত অপপ্রচার’ চলছে, দাবি হেফাজতের
সংবাদমাধ্যমে আসা যৌন নির্যাতনের কিছু অভিযোগকে ঘিরে কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ‘কাঠামোগত অপপ্রচার’ চালানোর দাবি করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
বিবৃতিতে সংগঠনটির অভিযোগ, এসব ঘটনা নিয়ে কওমি মাদ্রাসা ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীলদের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমির মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমানের বিবৃতিতে এ বিষয়ে সংগঠনটির অবস্থান তুলে ধরা হয়।
পরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিবৃতির বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানায়।
বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, “আমরা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত যৌন নিপীড়নের কিছু অভিযোগকে কেন্দ্র করে কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কাঠামোগত অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
“ব্রাহ্মণ্যবাদ, আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ ভূমিকার কারণে এবং বাংলাদেশে ইসলামকে ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে ধরে রাখায় কওমি মাদ্রাসা আবারও ঘৃণাজীবী সেক্যুলার প্রগতিশীলদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে।”
এদেশে ইসলামী মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখনই আক্রান্ত হয়েছে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের উত্তরাধিকার বহন করা কওমি মাদ্রাসা রুখে দাঁড়িয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “বাংলাদেশবিরোধী শাহবাগী শক্তিকে প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিয়েছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম।
“সম্প্রতি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদ্রাসাসার জায়গা-জমি দখলের চক্রান্তস্বরূপ মিথ্যা যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেও আমরা জেনেছি। সুষ্ঠু তদন্তের আগেই মিডিয়া ট্রায়ালের সুযোগ নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। বিষয়টি উদ্বেগজনক।”
হেফাজতের দুই নেতা বলেন, “স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসহ যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের ঘটনা খুবই স্পর্শকাতর। কারো বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই এবং সমস্যাটির প্রতিবিধানে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা প্রয়োগের বিকল্প নেই।
“এক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম সবসময় উদ্যোগ নিয়েছেন এবং তাদের বক্তব্য পরিষ্কার।”
এছাড়া সারা দেশে ছোট-বড় সব মাদ্রাসায় শিক্ষার মান, পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরো কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাদ্রাসা পরিচালকদের আহ্বান জানিয়ে হেফাজত নেতারা বলেন, ” সব শিক্ষাঙ্গন হোক শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, এটিই আমাদের প্রত্যাশা।”




