সব দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ‘অনন্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিস্তা প্রকল্পে ভারতের ‘উদ্বেগ’ নিয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে করা এক প্রশ্নে এ কথা বলেন তিনি।
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, “চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, বাংলাদেশ এবং চীন সম্পর্ক নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষের মাথাব্যথা বা মাথা ঘামানোর সুযোগ নাই। এটাতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন?”
জবাবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বক্তব্য হচ্ছে, আমাদের সব দেশের সাথে সম্পর্ক ‘ইউনিক’। চায়নার সাথে সম্পর্ক থাকবে, সকল দেশের সাথে সম্পর্ক থাকবে এবং এটা আমার মনে করি না এক দেশের সাথে সম্পর্ক ভালো হলে আরেক দেশের সাথে সম্পর্ক খারাপ হবে।
“আমাদের লক্ষ্যটা হচ্ছে যে সব দেশের সাথে ভালো সম্পর্ক রেখে আমাদের দেশের স্বার্থটা আমাদের হাসিল করা। এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর দুইদেশের সম্পর্ককে ‘উন্নততর’ পর্যায়ে নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা আশা করছি যে, এই সফরের পরে চাইনিজ ইনভেস্টমেন্ট আরও অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে। নতুন নতুন ইনভেস্টমেন্ট আসবে।
“এবং যেই প্রস্তাবগুলো দেওয়া হয়েছে চীন সরকারের পক্ষ থেকে, ‘টু প্লাস টু’ বৈঠক এবং ইকোনমিক করিডোর, সেটা নিয়ে অবশ্যই বাংলাদেশ সরকার আমরা পর্যালোচনা করছি।”
বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হলে এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হবে তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, “অবশ্যই এটা প্রক্রিয়াধীন আছে এবং আমরা এটা, যদি এটা আমাদের বাংলাদেশের জন্য বেনিফিট হয়, বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটা দরকারে আসে, তাহলে অবশ্যই সেটা আমরা বিবেচনায় নেব।”
‘টু প্লাস টু’ ম্যাকানিজম নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অবশ্যই আমরা এটা বিবেচনায় নিয়েছি। যদি হয়, তাহলে অবশ্যই এটা নিয়ে আরও আলোচনা করব।”
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুততর করার ক্ষেত্রে সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছে বেইজিং। ওই সমীক্ষা আগে যেখানে থেমেছিল সেখান থেকে চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হওয়ার কথা তুলে ধরে করা এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “ফিজিবিলিটি স্টাডিটা যে অবস্থায় তারা শুরু করেছিল, সেই অবস্থায় আছে, এটার কোনো অগ্রগতি হয় নাই। ইন্টেরিমের সময়ও হয় নাই, ইন্টেরিমের আগেও হয় নাই।
“আমরা তো চার মাস আসলাম এখন। সফরের পরে ওই ফিজিবিলিটি আগে যেখানে থেমেছিল, সেখান থেকে কন্টিনিউ করবো।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ফিজিবিলিটি স্টাডিটা কমপ্লিটই হয় নাই। এটা ফিজিবিলিটি স্টাডি এখনো সম্পূর্ণ হয় নাই। ওই ফিজিবিলিটি স্টাডি করার জন্য যা টেকনিক্যাল সাপোর্ট দরকার, সেটা চীন আমাদেরকে দিতে রাজি হয়েছে এবং চীন দিতে চায় সেটা।
“এবং আমাদেরতো তিস্তা ছাড়াও আমাদের রিভার ম্যানেজমেন্টের একটা সমস্যা আছে সারাদেশে। সেই রিভার ম্যানেজমেন্টেও, ওরা একটা ফিজিবিলিটি স্টাডিতে তারা হেল্প করতে চায়, সাপোর্ট দিতে চায়। চীন সেই সাহায্যটা, তারা করতে চায়।”
মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ ও চীনের “ইকোনমিক করিডোর’ নিয়ে করা এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক করিডোরে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানিয়ে এটাকে পর্যালোচনা করে দেখছে সরকার।
“এবং ইকোনমিক করিডোর একটা কমিউনিকেশন চ্যানেল। কমিউনিকেশনটা যদি আমাদের সহজ হয়, তাহলে আমাদের বাণিজ্য এবং অর্থনীতি অনেক বেশি সম্প্রসারণ করবে। সেটার কোনো জটিলতা, কোনো সমস্যা আছে কিনা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের বিচার-বিশ্লেষণ করে সেটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
হাসিনাকে ফেরানোর কাজ ‘প্রক্রিয়াধীন’
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় কোনো অগ্রগতি না থাকার কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।
এই বছরের মধ্যে দেশে ফিরে আসার যে ঘোষণা আওয়ামী লীগ সভাপতি দিয়েছেন, সেই প্রসঙ্গ টেনে তাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ার আপডেট জানতে চান এক সাংবাদিক।
জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, “নতুন কোনো আপডেট নাই। এটা প্রক্রিয়াধীন আছে। অবশ্যই, একজন আসামি, যিনি এতগুলো অন্যায় করে, অপরাধ করে আরেক দেশে আছেন এবং বিচার হয়েছে, বিচারে উনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।
“অবশ্যই ওনাকে আমরা ফেরত এনে, বাংলাদেশের মাটিতে এনে বিচারটা সম্পন্ন হোক, সেটা বাংলাদেশের জনগণ চায়। তো, সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে, প্রক্রিয়াধীন আছে।”




