রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলা, শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আবারও বাড়ছে সংঘাতের তীব্রতা। ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়ায় রুশ গাইডেড বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। ধ্বংস হয়েছে একাধিক বাড়িঘর, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশপাশের স্থাপনাও। জবাবে কৃষ্ণসাগরে মস্কোর শ্যাডো ফ্লিটের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার দাবি করেছে কিয়েভ। চলমান উত্তেনার মধ্যে, শান্তি আলোচনা শিগগিরই শুরুর সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়ায় তিনটি গাইডেড এয়ার বোমা নিক্ষেপ করে রুশ বাহিনী। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও একজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
হামলায় ধ্বংস হয়েছে একাধিক বাড়িঘর, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশপাশের স্থাপনাও। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।
পাল্টা জবাবে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার শ্যাডো ফ্লিটের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ। সংস্থাটির দাবি, লুইস-ওয়ান ও বান্দা নামের জাহাজ দুটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
জ্বালানি রফতানি রাশিয়ার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বারবার তেল শোধনাগার, জ্বালানি অবকাঠামো এবং সমুদ্রপথে রুশ সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছে ইউক্রেন।
যুদ্ধের প্রায় সাড়ে চার বছর পর স্থবির রয়েছে কূটনৈতিক উদ্যোগও। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, তুরস্ক মধ্যস্থতায় আগ্রহী থাকলেও এখনই নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর কোনো সম্ভাবনা নেই।
এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই বিদায়ী সফরে কিয়েভ পৌঁছেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার, পশ্চিমা সামরিক সহায়তার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। বৈঠকের আগে কিয়েভে নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান দুই নেতা।





