প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় তসলিমা নাসরিন
বিতর্কিত আত্মজীবনী ‘দ্বিখণ্ডিত’ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার কারণে যে শহর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, প্রায় দুই দশক পর আবার সেই কলকাতা ফিরেছেন ভারতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়ছে, শুক্রবার সকালে কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু বিমানবন্দর নামেন তসলিমা নাসরিন। এ সময় তার পরনে ছিল লাল পাড়ের সাদা শাড়ি; চোখে কালো সানগ্লাস।
বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তসলিমা বলেন, খুবই ভালো লাগছে। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। কলকাতায় আসার আগে ফেইসবুকে এক পোস্টে নিজের ছবি দিয়ে তসলিমা লেখেন, “আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম।
শনিবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তসলিমা। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার এবং অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক মোহিত রায় শুক্রবার বিমানবন্দরে তসলিমাকে স্বাগত জানান।
ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালের সহিংসতার জেরে কলকাতা ছাড়ার পর শনিবারের অনুষ্ঠানই হবে এ শহরে তসলিমার জনসম্মুখে প্রথম উপস্থিতি।
এমন এক সময়ে তার এই প্রত্যাবর্তন ঘটল, যখন গোটা দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে বাকস্বাধীনতা এবং নির্বাসিত লেখকদের অবস্থান নিয়ে আবার নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।
তসলিমাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ করেছে ‘সেক্যুলার মিশন’এবং ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাইটার্স ফাউন্ডেশন’ (এইচআরবিএফএফ) নামে দুটি সংগঠন। আয়োজকরা বলছেন, মৌলবাদের বিরুদ্ধে তসলিমার দীর্ঘদিনের ‘আপসহীন’ অবস্থান এবং বাকস্বাধীনতার পক্ষে লড়াইয়ের স্বীকৃতিতে তাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা হয়েছে।
১৯৬২ সালে ময়মনসিংহে জন্ম নেওয়া তসলিমা আশির দশকে উদীয়মান কবি হিসেবে বাংলাদেশের সাহিত্যজগতে ‘আলোড়ন’ তুলেছিলেন। কিন্তু লিঙ্গসমতার পক্ষে এবং ধর্মবাদের বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণে তাকে রোষানলে পড়তে হয়।
হত্যার হুমকি পেতে থাকায় ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে বাধ্য হন তসলিমা। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে এক দশকের বেশি সময় বসবাস করার পর ২০০৪ সালে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন।
কিন্তু ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তসলিমার লেখালেখি নিয়ে সহিংস প্রতিবাদ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় তিনি কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর তার কয়েকবার কলকাতায় আসার কথা থাকলেও নিরাপত্তা শঙ্কায় অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ায় তা আর হয়নি।




