এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার কালো পতাকা মিছিল করবে স্কপ
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), চট্টগ্রাম।
নগরীর এনায়েত বাজারে সংগঠনের কার্যালয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় হওয়া এক জরুরি সভায় আগামী মঙ্গলবার এই কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) কেন্দ্রীয় সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু শনিবার সকালে বলেন, “দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি টার্মিনাল জনগনের উদ্বেগ এবং মতামতকে উপেক্ষা করে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি হবে।
“সভায় স্কপ নেতারা এই উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানান।”
আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আগ্রাবাদের বাদামতলী মোড়ের আক্তারুজ্জামান সেন্টারের সামনে থেকে বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফজলুল কবির মিন্টু।
যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবসার ভূঁইয়া, বিএফটিইউসির রিজওয়ানুর রহমান খান, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, টিইউসির কেন্দ্রীয় সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন শাহিন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির এবং জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা মো. মাসুদসহ অন্যান্য নেতারা।
গেল ৪ জুন এক চিঠিতে এনসিটি ইজারায় দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
এরপর ১০ জুন এনসিটি ইজারা না দেওয়াসহ ৬ দফা দাবিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছিল স্কপ।
চট্টগ্রাম বন্দরের চালু থাকা চারটি কন্টেইনার টার্মিনালের মধ্যে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল সবচেয়ে বড়। গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া কন্টেইনারের ৪৪ শতাংশ হয় এনসিটিতে।
২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি পরিচালনা দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। এরপর থেকে এনসিটিতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
সবশেষ মে মাসে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনারকে একক হিসেবে ধরে) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়, যা এনসিটিতে এক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং গর্ভমেন্ট টু গর্ভমেন্ট (জিটুজি) কাঠামোর অধীনে এনসিটি পরিচালনার কাজ ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সেসময় ওই উদ্যোগ পরিণতি না পেলেও অর্ন্তবর্তী সরকারের মেয়াদে আবার এই প্রক্রিয়া গতিশীল হয়। অর্ন্তবর্তী সরকারের শেষ সময়ে এ বিষয়ে চুক্তি হয়ে যাওয়ার জোর আলোচনা শুরু হলে আন্দোলনে যায় বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা।
সবশেষ চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটিতে বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেয় অর্ন্তবর্তী সরকার।
৪ জুনের চিঠিতে দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে সরকারের নির্দেশনার পর আলোচনা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করে।




