২ কোটির বেশি শিশু হামের টিকার আওতায় এসেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত দুই কোটির বেশি শিশু টিকা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. শাখাওয়াত হোসেন।
বর্তমান সরকারের অধীনে দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা ১২২ শতাংশ অর্জিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (২৪ মে) সকালে কোরবানির ঈদের আগে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর জেনারেল হাসপাতালে হামের চিকিৎসা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি-না তা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বর্তমান সরকারের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে ১৮টি জেলা ও ৩০টি উপজেলায় টিকাদানের প্রথম ক্যাম্পেইন করা হয়েছিল সেখানে সংক্রমণের হার প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এরপর আমরা চারটি বড় সিটি করপোরেশনের শুরু করেছি, সেখানকার ফলাফল খুবই ভালো।
“টিকা নিয়ে অব্যবস্থাপনা কারা করেছে আমরা তা অবশ্যই খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। আমাদের পেছনে তাকিয়ে থাকলে হবে না, বর্তমানকে নিয়েই শুরু করতে হবে।”
হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে সরকার কোনো স্বাধীন তদন্ত চাইবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আমি যদি ১০টি মানুষকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েও হামে মায়ের বুক খালি হওয়া থামাতে না পারি, তবে কি আমি রক্ষা পাবো?
শুধু শাস্তি দিলে সমাধান হবে না। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো হাম সংক্রমিত শিশুদের জীবন রক্ষা করা এবং মায়ের বুক ভরাট রাখা।”
কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সেখানকার রান্নাঘর পর্যবেক্ষণ করেন এবং খাবার খেয়ে দেখেন। পরে তিনি সেখানে থাকা হাম সংক্রমিত শিশুদের খোঁজখবর নেন।
এরপর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন। সেখানেও তিনি রোগীদের খাবার ও ওষুধপত্রের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে মন্ত্রী পদুয়ার বাজার বেলতলীতে নির্মাণাধীন ১০০ শয্যা শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওষুধ সংকট ও কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার সকল অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক রয়েছে এবং বিষয়টি সময়মতো খতিয়ে দেখা হবে।”
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান, সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মির্জা তাইয়্যেবুল ইসলাম, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ অন্যান্যরা মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।




