ইউরেনিয়াম বিদেশে না পাঠাতে খামেনির নির্দেশ, চুক্তি নিয়ে নতুন জট
পরমাণু ইস্যু ঘিরে শক্ত অবস্থান নিয়েছে ইরান। নিজেদের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে যেতে দেবে না তারা। তেহরানের এ অবস্থান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির ক্ষেত্রে একটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদিও চুক্তির লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই জবাবের পর্যালোচনা চলছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করে। প্রায় ছয় সপ্তাহ পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এরপর যুদ্ধে স্থায়ীভাবে বন্ধে মাত্র একবার বৈঠকে বসেছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। যদিও সেখান থেকে ইতিবাচক কিছু আসেনি। এর পর থেকে চুক্তির লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব আদান–প্রদান চললেও আশার কোনো খবর শোনা যায়নি।
একটি চুক্তির ক্ষেত্রে দুই পক্ষের বিরোধগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র চায় নিজেদের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করুক তেহরান। এ নিয়ে ইরান সরকারের আপত্তি রয়েছে। এরই মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোতজবা খামেনি নির্দেশ দিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যেন বিদেশে পাঠানো না হয়।
মোজতবা খামেনির এ নির্দেশের কথা রয়টার্সকে জানিয়েছে দুটি ইরানি সূত্র। তারা বলেছে, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, একবার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠিয়ে দিলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বড় ঝুঁকিতে পড়বে তেহরান। এ বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউস ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এর পরিমাণ ৪৪০ কেজির বেশি। এগুলো পরমাণু অস্ত্র তৈরির মাত্রার কাছাকাছি। যুদ্ধের আগে ইরান জানিয়েছিল, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অর্ধেক বিদেশে পাঠিয়ে দিতে রাজি তারা। তবে সূত্র বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক হুমকির মুখে সে সিদ্ধান্ত বদলেছে তেহরান।
এমনকি গত বুধবারও ইরানের আবার হামলা চালানো হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, একটি চুক্তি করতে ইরানের জবাবের অপেক্ষা করতে রাজি তিনি। তবে আবার হামলাও শুরু করতে পারেন। ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বাস করুন, আমরা যদি সঠিক জবাব না পাই, তাহলে খুব শিগগির তা (হামলা) করা হবে। আমরা (ইরানের দিকে) যাত্রা শুরু করতে প্রস্তুত।’
এর আগে চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেরি বলেছেন, ওই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের হুমকির জবাবে রুশ গণমাধ্যমের কাছে ইরানি এক কর্মকর্তা পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে এ–ও বলেছে, তাদের কাছে এমন অস্ত্র রয়েছে, যেগুলো অত্যাধুনিক এবং আগে যুদ্ধে পরীক্ষা করা হয়নি।
তবে এমন সংঘাত যেন আর শুরু না হয়, সে জন্য তেহরানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মধ্যস্থাকারী দেশ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তাঁর লক্ষ্য হলো দুই পক্ষে মধ্যে মতবিরোধগুলো কমিয়ে আনা এবং একটি সমঝোতার পথ তৈরি করা।





