জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ৪ কর্মসূচি জামায়াত জোটের
জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের রায় কার্যকর না করার অভিযোগ তুলে আরও চারদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ‘১১ দলীয় ঐক্য’।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মুহাম্মাদ মামুনুল হক জানিয়েছেন, ৯ এপ্রিল শাহবাগে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে শুরু হবে এ কর্মসূচি। ১১ এপ্রিল সারাদেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এ নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দ্বিতীয় দফায় মাঠের কর্মসূচি দিল বিরোধীরা।
জোটের নেতা মামুনুল হক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে বিএনপি উপেক্ষা করছে। গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ১১ দল রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সংসদে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় ‘১১ দলীয় ঐক্য’ ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্মেলনে জোটের শরিক দলগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা ঠিক করে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। আর সেসব সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন হয় গণভোট।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখার কথা। সংসদের মতই সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা।
জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলের সদস্যরা সেদিন দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে ২৯ মার্চ বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান কার্যপ্রণালী-বিধির ৬২ বিধি অনুসারে জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের নোটিস দেন।
মুলতবি প্রস্তাবের বিষয়ে ‘প্রতিকার না পাওয়ার’ অভিযোগে ১ এপ্রিল সংসদ থেকে ওয়াক আউট করে বিরোধী দল।
এরপরদিন ঐকমত্যের ভিত্তিতে ৪ এপ্রিল বিকালে ঢাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে ‘১১ দলীয় ঐক্য’।




