যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ নিজেদের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চলতে থাকার খবর জানিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বুধবার জানায়, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবেলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘সক্রিয়ভাবে কাজ করছে’।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্ফোরণের যে শব্দ শোনা গেছে, তা মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিহত করার কারণে হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো মোকাবেলা করছে।”
কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা (বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা) থেকে শুরু হওয়া ইরানি ড্রোনের একটি বড় বহরকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করছে।
সেনাবাহিনী জানায়, গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানি শোধনাগারে ড্রোন হামলা হয়েছে, যার ফলে অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ইরানের ‘তীব্র শত্রুতামূলক হামলার’ জবাব দিয়েছে এবং মোট ২৮টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “কুয়েতি সশস্ত্র বাহিনী বিপুল সংখ্যক ড্রোন প্রতিহত করেছে, যার মধ্যে কিছু ড্রোন দেশের দক্ষিণে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হেনেছে।”
ওদিকে, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইরানের হামলার খবর জানিয়েছে। এতে অন্তত দুইজন নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, “একটি ইরানি ড্রোন প্রতিহত করার সময় এর ধ্বংসাবশেষ সিত্রা এলাকায় পড়লে দুই নাগরিক সামান্য আহত হন এবং বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
ফরাসি বার্তা সংস্থার বরাতে আল জাজিরা জানায়, সকালে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
আল-জাজিরার সাংবাদিক সিত্রা দ্বীপের একটি এলাকা থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখেছেন, যেখানে বাহরাইনের প্রধান জ্বালানি স্থাপনাগুলো অবস্থিত।
এর আগে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানায়, ‘ইরানের আগ্রাসনের’ লক্ষ্যবস্তু হওয়া একটি স্থাপনার আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা। তবে স্থাপনাটির অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে। তবে তারা বলেছে, বুধবার ইরানের একটি তেল স্থাপনায় বোমা হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, বুধবার ইরানের লাভান দ্বীপে একটি তেল শোধনাগারে হামলা হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তবে হামলায় কেউ হতাহত হয়নি।
উল্লেখ্য, ইরানকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান বুধবার দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উপসাগরীয় দেশগুলো তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে।
ইরান এই অঞ্চলের তেল সমৃদ্ধ দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোকে হামলার নিশানা করার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল।




