বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে গাড়িতে তুলে নিয়ে টাকা লুট
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক আবদুর রাজ্জাক (সোহেল) ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। এমন সময় একটি প্রাইভেট কারে করে এসে চারজন দুর্বৃত্ত আবদুর রাজ্জাককে জোরপূর্বক তুলে নেয়। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই শিক্ষকের সঙ্গে থাকা টাকা কেড়ে নেওয়া হয়।
গত বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার কোটবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অপহরণের পর একই দিন বিকেল পাঁচটার দিকে আবদুর রাজ্জাককে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে দাউদকান্দির শহীদনগর এলাকায় ফেলে যাওয়া হয়। দুর্বৃত্তরা টাকা, মুঠোফোন ছাড়াও ওই শিক্ষককে জিম্মি করে তার এটিএম কার্ড দিয়েও টাকা লুটে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাত চারজন ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলা করার পরই বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে, তারা ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরার চেষ্টা করছে।
আবদুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার দুপুরে এক সহকর্মীর প্রাইভেট কারে করে আমি কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় যাই। সেখান থেকে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় একটি প্রাইভেট কার এসে থামে আমার সামনে। গাড়িতে থাকা একজন আমাকে জিজ্ঞাসা করে, উবার কল করেছি কি না। আমি করিনি বলে জানাই। ওই ব্যক্তি জানান, অ্যাপে নাকি আমার ছবি দেখা যাচ্ছে। এ কথার মধ্যেই বেলা আনুমানিক আড়াইটার সময় প্রাইভেট কারে থাকা লোকজন আমাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে ঢাকার দিকে নিয়ে যেতে থাকে। কুমিল্লা সেনানিবাস পার হওয়ার পর তারা আমার চোখ–হাত-পা বেঁধে ফেলে।
আবদুর রাজ্জাক আরও বলেন, তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমার কাছে থাকা মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং ১৫ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। আমার এটিএম কার্ডের পাসওয়ার্ড জানতে চাইলে আমি প্রথমে অস্বীকৃতি জানাই। পরে আমাকে মারধর করা হলে বাধ্য হয়ে পাসওয়ার্ড জানাতে হয়। একই সঙ্গে তারা আমার বিকাশ নম্বরের পাসওয়ার্ডও নিয়ে নেয়।
ওই শিক্ষক জানান, অপহরণকারী দলটিতে মোট চারজন ছিলেন। তাদের একজন ছিলেন চালক, তার পাশের সিটে বসা ব্যক্তিটি ছিলেন আইটিতে দক্ষ। পেছনে দুজন ছিলেন অস্ত্রধারী ডাকাত প্রকৃতির।
তিনি বলেন, তারা আমাকে দাউদকান্দি এলাকায় আবিদ মার্কেটের পাশে ইসলামী ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে নিয়ে যায়। সেখানে চার ধাপে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া আমার মানিব্যাগে থাকা ১৫ হাজার টাকা ও বিকাশ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে মোট ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে আমাকে দাউদকান্দির শহীদনগর এলাকায় মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। ফেলে দেওয়ার আগে তারা আমাকে কয়েকবার গুলি ও স্প্রে করে অজ্ঞান করে দেওয়ার হুমকি দেয়।
আবদুর রাজ্জাক আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে আমি এখনো গভীর ট্রমার মধ্যে আছি। এ বিষয়ে আমি থানায় মামলা করেছি। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষক অজ্ঞাতপরিচয় চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর আছে।




