ঈদে ‘প্রিন্স’ ঘিরে বিশৃঙ্খলা, শো বাতিল ও ভাঙচুর
ঈদে মুক্তি পাওয়া সুপারস্টার শাকিব খানের ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমার প্রদর্শন ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।
নতুন সার্ভার সিস্টেমের জটিলতা, লাইসেন্স না পৌঁছানো এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বগুড়া, মাদারীপুর, সৈয়দপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গার ‘অর্ধশতাধিক হলে’ সকালের শো ‘বাতিল হয়েছে’ বলে জানিয়েছেন প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল।
শাকিবের সিনেমা দেখতে না পেরে ক্ষেপে গিয়ে কিছু জায়গায় প্রেক্ষাগৃহে ভাঙচুরও করেছে মানুষ। দর্শক প্রবেশের পরেও সিনেমা চালাতে না পারায় অনেক জায়গায় টিকেটের টাকা ফেরত দিতে হল মালিকরা বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উজ্জ্বল।
তিনি বলেন, ‘‘সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমার পরিবেশক নির্মাতা অনন্য মামুনের প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন ‘কাট এন্টারটেইনমেন্ট’ এবং হল মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’’
বেশ কয়েকজন হল মালিকের সঙ্গে কথা বলে গ্লিটজ জেনেছে, নতুন একটি সার্ভার সিস্টেমের মাধ্যমে সিনেমাটির কপি বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সরবরাহ করা হয়। যা সরবরাহ করার নিয়ম আরও একদিন আগে। এই নতুন সার্ভার প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত নন অধিকাংশ হল অপারেটর। ফলে অনেক হলে সার্ভার চালু করা, কনটেন্ট লোড করা এবং প্রদর্শনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি সময়মত।
এছাড়াও যেসব হলে সিনেমার কপি পৌঁছেছে, সেখানেও দেখা দিয়েছে লাইসেন্স জটিলতা ও সাউন্ড সমস্যার মত কারিগরি ত্রুটি।
লাইসেন্স না পাওয়ায় বগুড়ার মধুবন সিনেমা হলে সকালের শো বাতিল করে দর্শকদের বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়।
তবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কোনো শো চালানো যায়নি বলে জানিয়েছেন বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোকনুজ্জামান ইউনূস।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার এইখানে দুপুর ১২টার শো চালানো সম্ভব হয়নি, কারণ সময়মতো কেডিএম বা লাইসেন্স না পাওয়ায় সিনেমাটি পর্দায় প্রদর্শনের অনুমতি মিলেনি।”
এই পরিচালক বলেন, “দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ প্রেক্ষাগৃহে একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।”
এ পরিস্থিতিতে সিনেমার প্রযোজক ও পরিবেশকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সৈয়দপুরের তামান্না সিনেমা হলের অপারেটর আব্দুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের হলে সিনেমা দিয়েছে, সাউন্ড আসে না। দর্শক ক্ষুদ্ধ হয়ে ভাঙচুর করেছে। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। অনেক টাকা খরচ করে হল চালু করেছি ঈদের সিনেমা চালাব বলে৷
“সাউন্ড সমস্যা, সময়মত সার্ভার না দেওয়া। অগ্রিম টিকেট যা বিক্রি হল সব ফেরত দিতে হল। অনন্য মামুনের মাধ্যমে যতবার সিনেমা নিলাম ততবারই ক্ষতিগ্রস্ত হলাম।”
মাদারীপুরের টেকেরহাটে সোনালী সিনেমা হলের মালিক রাহুল খান জানিয়েছেন, তিনি কয়েক লাখ টাকা দিয়ে ‘প্রিন্স’ নিয়েছেন ঈদে চালানোর জন্য। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত সার্ভারে সিনেমা লোড হয়নি। তিনি দুপুরের শোয়ের ১৫ হাজার টাকার টিকেট বিক্রি করেছিলেন। তা ফেরত দিয়েছেন দর্শকদের।
এর আগে সকালের শো চালাতে না পারায় বিক্ষুদ্ধ দর্শকরা তার হলের চেয়ার ভেঙেছে।
শুধু দেশের এসব সিঙ্গেল প্রেক্ষাগৃহে নয়, দেশের সবচেয়ে বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সও ‘প্রিন্স’-র কোনো ডিসিপি (ডিজিটাল সিনেমা প্রজেকশন) ফাইল পায়নি।
বিকেল ৩টা পর্যন্ত ডিসিপি পায়নি জানিয়ে হলটির মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ গ্লিটজকে বলেন, “’প্রিন্স’ সিনেমার ফাইল আমরা এখনো হাতে পাইনি। কোনো শো চালানো হয়নি। সেই জায়গায় অন্য সিনেমা চলছে। এই ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক।
“প্রযোজকরা ঈদে সিনেমা মুক্তি দিতে চান। কিন্তু তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ হয় না। ঈদের দিনেও সিনেমার ফাইল দিতে পারেন না। এতে করে আমাদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেল।”
বিষয়টি নিয়ে জানতে ‘প্রিন্স’ সিনেমার পরিবেশক অনন্য মামুনকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এমনকি সিনেমার প্রযোজনা সংস্থা ক্রিয়েটিভ ল্যান্ডসের কর্ণধার শিরিন সুলতানাকে ফোন করে ও বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।
আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত ‘প্রিন্স’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাকিব খান, তাসনিয়া ফারিণ ও কলকাতার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু।




