ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনপরিশোধে উদ্যোক্তারা পাচ্ছেন বিশেষ ঋণ
রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধে উদ্যোক্তাদের বিশেষ ঋণ সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
ব্যবসায়ীদের চলতি মূলধনের একক সীমার বাইরে এ ঋণ দেওয়ার সুযোগ দিয়ে মঙ্গলবার রাতে ব্যাংকগুলোতে সার্কুলার পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিশেষ ঋণ দেওয়ার ব্যখ্যায় বলা হয়েছে, ‘‘বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়িক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি ধারাবাহিক নিম্নমুখী রপ্তানি, ক্রয়াদেশ পিছিয়ে যাওয়া, তারল্য সংকট ইত্যাদি কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
“ফলশ্রুতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।”
ঋণ পাওয়ার শর্ত
সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে প্রযোজ্যতা অনুসারে গ্রাহকের সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে মেয়াদী ঋণ দেওয়া যাবে।
এই ঋণের পরিমাণ ঋণগ্রহীতা শিল্প প্রতিষ্ঠানের গত তিন মাসের প্রদত্ত গড় বেতন/ভাতার বেশি হবে না।
যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান মোট উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে, তারা রপ্তানিমুখী শিল্প এবং যে সব প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদের ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে, তারা সচল হিসেবে বিবেচিত হবে।
সচল ও রপ্তানিমুখী হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠনের (বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ইত্যাদি) প্রত্যয়নপত্র দিয়ে সমর্থিত হতে হবে।
এ ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক প্রচলিত সুদহার প্রযোজ্য হবে।
তফসিলি ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন/ভাতার অর্থ জমা করবে।
এই ঋণের অর্থ মেয়াদী ঋণ আকারে ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১ বছরে সমকিস্তিতে (মাসিক/ত্রৈমাসিক) আদায় করতে হবে।
ঋণের ওপর নিয়মিত সুদ ছাড়া অন্য কোনো প্রকার অতিরিক্ত সুদ/মুনাফা/ফি/চার্জ (যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন) আদায়/আরোপ করা যাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে মোস্তাকুর রহমান তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে কাজ করে আসছিলেন।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করার আগের দিন বিজিএমএই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে বেতন-ভাতা পরিশোধে ‘সফট লোন’ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল।
রপ্তানি খাতের ব্যবসায়ীদের বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি আরেক সার্কুলার দিয়ে সবার জন্য চলমান ঋণ নবায়নের নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবেদন করে তার সময়ে বাড়িয়ে নিতে পারবে ঋণ গ্রহীতা। সেজন্য মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই মাস আগেই আবেদন করতে হবে।
তাতে ঋণ গ্রহীতা খেলাপি তালিকায় নাম ঢুকে যাওয়া কয়েক মাস ঠেকাতে পারবেন।
সার্কুলারে বলা হয়, নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন সম্পন্ন করা সম্ভব না হলে, ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত নবায়ন করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণ যথাযথভাবে নথিভুক্ত করতে হবে।
এ ছাড়া অনুমোদিত ঋণসীমার অতিরিক্ত অংশ নবায়নের আগে সমন্বয় করতে হবে। অতিরিক্ত অংশ আলাদা করে নতুন ঋণ হিসেবে দেখানো বা অন্য হিসাবে স্থানান্তর করে সঠিক শ্রেণিবিন্যাস এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
এ–সংক্রান্ত নীতিমালাটি ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।





