চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, ইউনিয়ন আমিরের ভাই নিহত
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষের সময় আহত হওয়া জামায়াতের ইউনিয়ন আমিরের ভাই ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের অন্তত ছয় জন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হাসাদাহ বাজারের কামিল মাদরাসা গেটের সামনে এ সংঘর্ষ ঘটে বলে জানিয়েছেন জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ।
নিহত হাফিজুর রহমান (৫৫) বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও মফিজুর রহমানের বড় ভাই। তিনি জীবননগর শহরের ঢাকা জুয়েলার্সের মালিক।
মফিজুর রহমানও (৪০) গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জামায়াতের অন্য আহতরা হলেন, খায়রুল ইসলাম (৫০) ও সোহাগ (৩৫)। তাদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।
অন্যদিকে বিএনপির আহতরা হলেন- বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার (৫০), স্বেচ্ছাসেবক দলের সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত নেতা মেহেদী হাসান (৪০) এবং তার বাবা জসীম উদ্দিন (৬৫)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, সংসদ নির্বাচনের পরও বিএনপি ও জামায়াতের একই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। তার জের ধরে শনিবারের এ ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, শনিবার ইফতারের পর উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। প্রায় ৪০–৪৫ মিনিট পর পুনরায় উভয় পক্ষ বাজারে জড়ো হলে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাধে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত হাফিজুর রহমানকে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শনিবার রাত আড়াইটার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
রোববার সকালে ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন আছেন। পরিস্থিতি কিছুটা থমথমে হলেও নিয়ন্ত্রণে আছে।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।




