ইরানের পর কিউবার সরকার পরিবর্তনের হুমকি ট্রাম্পের
কিউবায় সরকার উৎখাতের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে তার প্রশাসনের চলমান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কিউবায় মার্কিন পদক্ষেপ শুরু হতে পারে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এসময় কিউবা ইস্যুতে ‘চমৎকার কাজ’ করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, কিউবার অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘কিউবায় যা ঘটছে তা আশ্চর্যজনক। আমরা প্রথমে এটি (ইরান) শেষ করতে চাই। তবে সেটি (কিউবা) হবে কেবল সময়ের ব্যাপার।’
ট্রাম্প ও তার মিত্ররা প্রায়ই হাভানাকে হুমকি দিয়ে আসছেন এবং দেশটির কমিউনিস্ট সরকারকে হঠানোর লক্ষ্যে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে চলেছেন।
জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অপহরণ করার পর, ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। বছরের পর বছর ধরে ভারী মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার জন্য এই তেল সরবরাহ ছিল একটি অপরিহার্য অর্থনৈতিক লাইফলাইন।
বিশ্বজুড়ে নিজের অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়ন করতে ট্রাম্প চরম সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার ক্ষেত্রে তিনি আগেও বলেছিলেন, নিকট ভবিষ্যতে কিউবা ‘পতনের জন্য প্রস্তুত’ বলে মনে হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলা (যাতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে) এবং লাতিন আমেরিকার উপকূলে মাদক পাচারকারী সন্দেহে বোটগুলোর ওপর আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে গণ্য করা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ধরনের আইনি সীমাবদ্ধতার প্রতি তোয়াক্কা করেননি।
বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা অনেক ভিন্ন উপায়ে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছি। আমি আমার প্রথম মেয়াদে সামরিক বাহিনীকে গড়ে তুলেছি এবং পুনর্গঠন করেছি। সত্যি বলতে, আমি যতটা চাই তার চেয়েও বেশি এটি ব্যবহার করছি; কিন্তু যখনই আমরা এটি ব্যবহার করেছি, আমরা দেখেছি যে এটি অবশ্যই কাজ করেছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা যখন ভেনেজুয়েলার দিকে তাকাই, কিংবা ইরানের ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানের দিকে তাকাই, যা বর্তমানে আমাদের কাজের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে—এটি সত্যিই আশ্চর্যজনক।’




