৪০ লাখ ডলারের ‘টার্গেট বোনাস’: জেনসেন হুয়াংয়ের জন্য এনভিডিয়ার নতুন সমীকরণ
করপোরেট জগতের শীর্ষ নির্বাহীদের পারিশ্রমিক নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে জেনসেন হুয়াংয়ের ক্ষেত্রে এই কৌতূহল এখন বিস্ময়ে রূপ নিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া তাদের প্রধান নির্বাহী (সিইও) জেনসেন হুয়াংয়ের জন্য ২০২৭ অর্থবছরের এক নতুন বোনাস পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি প্রতি মাসে বেতন হিসেবে পাবেন না; এটি একটি ‘টার্গেট বোনাস’, যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বছর শেষে এককালীন প্রদান করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, জেনসেন হুয়াংয়ের জন্য ৪ মিলিয়ন বা ৪০ লাখ ডলারের একটি নগদ বোনাস লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি কোনো নিয়মিত মাসিক বেতন নয়। ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি যখন এনভিডিয়ার অর্থবছর শেষ হবে, তখন দেখা হবে কোম্পানি তাদের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে কি না। যদি সেই লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ হয়, তবেই বছর শেষে জেনসেন হুয়াং এই এককালীন ৪০ লাখ ডলার বোনাস হিসেবে পাবেন।
পরিবর্তনশীল পারিশ্রমিক
এনভিডিয়ার এই পরিকল্পনাকে বলা হচ্ছে ‘পরিবর্তনশীল পারিশ্রমিক’। অর্থাৎ এই আয়ের অঙ্কটি সুনির্দিষ্ট নয়। যদি এনভিডিয়া তাদের নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আয় করে, তবে হুয়াংয়ের বোনাস এই ৪০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আবার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে এই অঙ্ক কমেও যেতে পারে। বড় কোম্পানিগুলো সাধারণত তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাজের প্রতি বাড়তি অনুপ্রেরণা দিতেই এমন বার্ষিক লক্ষ্যভিত্তিক বোনাস কাঠামো তৈরি করে।
আয়ের মূল অংশ শেয়ারে
তবে এই ৪০ লাখ ডলারের বোনাস জেনসেন হুয়াংয়ের মোট উপার্জনের খুব সামান্য একটি অংশ মাত্র। তাঁর বার্ষিক আয়ের দিকে তাকালে দেখা যায়, নগদ বোনাসের চেয়ে কোম্পানির শেয়ারের মূল্য অনেক বেশি। ২০২৫ সালে হুয়াংয়ের মোট পারিশ্রমিক ছিল ৪৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে প্রায় ৩৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারই ছিল শেয়ারভিত্তিক পুরস্কার। অর্থাৎ বছর শেষে কোম্পানি ভালো করলে শেয়ারের দাম বাড়ে, আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে হুয়াংয়ের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ।
আরও পড়ুন
নেতৃত্বের জন্য বড় পরীক্ষা
এনভিডিয়া বর্তমানে তাদের ব্যবসায়িক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সময় পার করছে। তাদের এআই প্রসেসরের আকাশচুম্বী চাহিদার কারণে ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭৮ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল ব্যবসায়িক সাফল্যই জেনসেন হুয়াংয়ের জন্য এমন আকর্ষণীয় বার্ষিক বোনাস নিশ্চিত করার পথ প্রশস্ত করেছে।
সহজ কথায়, জেনসেন হুয়াংয়ের এই ৪ মিলিয়ন ডলার হলো আগামী এক বছরের একটি বড় ‘চ্যালেঞ্জ’। বছর শেষে কোম্পানির আয়ের খাতায় বড় অঙ্কের মুনাফা যোগ করতে পারলেই তাঁর পকেটে ঢুকবে এই বিশাল বোনাস।




