হরমুজ প্রণালী সংকট: তেলের দাম ২০০ ডলারে যেতে পারে, ইরানের হুঁশিয়ারি
তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিশ্বকে এর জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে ইরানের সামরিক কমান্ড। বুধবার অবরুদ্ধ পারস্য উপসাগরে আরও তিনটি জাহাজে হামলার পর তেহরান এই হুঁশিয়ারি দিল।
পেন্টাগন মঙ্গলবার তাদের চালানো হামলাকে এ যাবৎকালের ‘সবচেয়ে তীব্র’ বলে বর্ণনা করলেও, ইরান বুধবার ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এর মাধ্যমে তেহরান প্রমাণ করেছে যে, তারা এখনও পাল্টাহামলা চালানো এবং জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত করার সক্ষমতা রাখে।
জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালী:
চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেলের দাম হু হু করে বাড়লেও বর্তমানে তা কিছুটা কমে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি এসে থিতু হয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েল দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার একটি পথ খুঁজে পাবেন।
তবে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, যা বর্তমানে অবরুদ্ধ। ১৯৭০ সালের তেল সংকটের পর জ্বালানি সরবরাহে এটিই সবচেয়ে বড় বিপর্যয়।
ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। কারণ, এই দাম আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল, যা আপনারা নষ্ট করেছেন।”
ওদিকে, উপসাগরে প্রজেক্টাইলের আঘাতে আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে থাইল্যান্ড, জাপান ও মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪টি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি’ (আইইএ) তাদের কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সুপারিশ করতে পারে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বুধবার বলেছেন, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান ‘সময়সীমা ছাড়াই’ চলবে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, তাদের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির সীমান্ত পেরিয়ে শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা শেষ করে দেওয়া।




