ট্রাম্পের সতর্কবার্তায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলো
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তায় এক দিনের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অনেকটাই কমে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি যেন তারা অবরুদ্ধ না করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এখন পর্যন্ত যতটা আঘাত করেছে, তার চেয়েও ২০ গুণ কঠোর হামলা করবে। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এই সতর্কবার্তার পর আজ মঙ্গলবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমে আসে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৯২ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুডের দাম ১০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৮৫ দশমিক শূন্য ৮ ডলারে নেমে আসে। এর আগে গতকাল সোমবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী না–ও হতে পারে। এরপরই বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফেরে এবং তেলের দাম কমতে শুরু করে।
ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, কিছু ‘অশুভশক্তিকে’ দমন করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে তাঁর ধারণা, এই যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হবে না।
সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমে আসায় এশিয়ার শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ।
এর আগের দিন উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং সুদের হার বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
এদিকে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় জি–৭ ভুক্ত দেশগুলো বলেছে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত। জি–৭ নেতাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার বৈঠকে কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার বিষয়টি আলোচনায় এলেও এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস বলেন, ওই বৈঠকে যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে আইইএর সদস্যদেশগুলোর মজুত তেল বাজারে ছাড়ার উদ্যোগে সমর্থন দিতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত।





