শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, চলছে গণনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬–এর ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষ হলো। সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে ভোট ছিল শান্তিপূর্ণ।
নির্বাচন চলাকালে পৃথক ঘটনায় মোট চার ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দিক থেকে কিছু অভিযোগ এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা নয় ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে ভোট নেওয়া হয়।
শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। নতুন তফসিল অনুযায়ী ওই আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ ভোট দিলেন দেশের ভোটারেরা।
একই সঙ্গে ভোটারেরা গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট দিয়ে নিজেদের মত জানালেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তা হবে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের সূচনা।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, গণনার সময় প্রথমে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। এরপর পৃথকভাবে দুই ধরনের ব্যালট গণনা করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক হাজার ২৩২ জন।
ভোটের দিন সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কেন্দ্র দখল ও জালভোটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কিছু জায়গায় হামলা, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, এতে কয়েকজন আহত হন। খুলনায় উত্তেজনার মধ্যে এক বিএনপি নেতা অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোতায়েনের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোথাও ভোটগ্রহণ স্থগিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংসদীয় কুমিল্লা-৮, শরীয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিতের দাবি জানিয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোট। আজ বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জোটের এক নেতা। তাদের অভিযোগ, ওই কেন্দ্রগুলোতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেননি।
ভোট পরিচালনায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মধ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৪২ হাজার ৭৭৯, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ এবং পোলিং কর্মকর্তা ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।
২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন, পুরুষ এক হাজার ৯৪৬ জন।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর এক লাখ তিন হাজার, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনীর সাড়ে তিন হাজার, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯, আনসারের ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ এবং বিএনসিসির ১ হাজার ৯২২ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
এখন কেন্দ্রগুলোতে ভোট গণনা চলছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
এদিকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১ কেন্দ্রে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।




